ঢাকা    শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla Lead

ধেয়ে আসছে ‘অতি শক্তিশালী’ এল নিনো, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা



ধেয়ে আসছে ‘অতি শক্তিশালী’ এল নিনো, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তাঁর মতে, পরিস্থিতি দ্রুত আরও গুরুতর হয়ে উঠছে এবং এর প্রভাব বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবন ও অর্থনীতিতে পড়তে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলমান এল নিনো আগামী কয়েক মাসে আরও তীব্র হতে পারে। এর প্রভাব অন্তত ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি এটি ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোতে রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধরণে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে। কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়তে পারে, আবার অন্য কোথাও অতিবৃষ্টি, বন্যা ও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এর সঙ্গে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

গুতেরেস বলেছেন, এল নিনো দ্রুত বড় আকার ধারণ করছে। একই সময়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রাও বাড়ছে, ফলে বিশ্ব এমন এক অনিশ্চিত আবহাওয়াগত পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে, যার প্রভাব মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জরুরি।

ডব্লিউএমও জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যবেক্ষণ অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ইতোমধ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়েছে। আগামী কয়েক মাসে এই তাপমাত্রার পার্থক্য প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে এসব এলাকায় খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিপরীতে পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ ব্রাজিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা দেখা দিতে পারে।

ডব্লিউএমও মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো জানিয়েছেন, শক্তিশালী এল নিনো বিশ্বের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও অর্থনীতির ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

ট্যাগ : আবহাওয়ার দাবানল

Bangla Lead

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ধেয়ে আসছে ‘অতি শক্তিশালী’ এল নিনো, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তাঁর মতে, পরিস্থিতি দ্রুত আরও গুরুতর হয়ে উঠছে এবং এর প্রভাব বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবন ও অর্থনীতিতে পড়তে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলমান এল নিনো আগামী কয়েক মাসে আরও তীব্র হতে পারে। এর প্রভাব অন্তত ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি এটি ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোতে রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধরণে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে। কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়তে পারে, আবার অন্য কোথাও অতিবৃষ্টি, বন্যা ও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এর সঙ্গে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

গুতেরেস বলেছেন, এল নিনো দ্রুত বড় আকার ধারণ করছে। একই সময়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রাও বাড়ছে, ফলে বিশ্ব এমন এক অনিশ্চিত আবহাওয়াগত পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে, যার প্রভাব মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জরুরি।

ডব্লিউএমও জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যবেক্ষণ অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ইতোমধ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়েছে। আগামী কয়েক মাসে এই তাপমাত্রার পার্থক্য প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে এসব এলাকায় খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিপরীতে পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ ব্রাজিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা দেখা দিতে পারে।

ডব্লিউএমও মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো জানিয়েছেন, শক্তিশালী এল নিনো বিশ্বের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও অর্থনীতির ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড