ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
Bangla Lead

হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় নৌ উপস্থিতি বাড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া



হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় নৌ উপস্থিতি বাড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী সামুদ্রিক অঞ্চলে নিজেদের নৌবাহিনীর বিশেষ জলদস্যুবিরোধী ইউনিটের কার্যক্রমের ভৌগোলিক পরিধি বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। একই সঙ্গে ওই এলাকায় নৌবহরের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ জনবল পাঠানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএস (KBS)।

দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নৌবাহিনীর বিশেষ ‘চেওংহে’ ইউনিটে নতুন করে আরও ৭৫ জন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে ইউনিটটির মোট সক্রিয় সদস্যসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৩৯৫ জনে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের মুখে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি। এমন পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাস ধরে সেখানে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়টি সিউল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে আসছিল। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং আগেই দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো অবস্থাতেই যুদ্ধে জড়ানোর উদ্দেশ্যে সেখানে সেনা পাঠানো হবে না। এমন কোনো সামরিক পদক্ষেপেও দক্ষিণ কোরিয়া অংশ নেবে না, যার ফলে দেশটি সরাসরি অন্য কোনো পরাশক্তি বা আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ পরিকল্পনাটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের আগে মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা ও প্রেসিডেন্টের অনুমোদন নেওয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি জাতীয় পরিষদে (পার্লামেন্ট) উপস্থাপন করা হবে।

২০০৯ সাল থেকে সোমালিয়ার উপকূলে এডেন উপসাগরে জলদস্যু দমন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জলসীমায় দক্ষিণ কোরীয় বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা দিতে নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে চেওংহে ইউনিট। প্রতি বছর দেশটির পার্লামেন্টের সম্মতির ভিত্তিতে এই ইউনিটের ম্যান্ডেট নবায়ন করা হয়।

কেবিএসের তথ্যানুযায়ী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউনিটটির টহল কার্যক্রম ওমানের দুকম বন্দরের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে, যা মূল হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার বা ৪০৩ দশমিক ৮ মাইল দূরত্বে অবস্থিত।

এ ছাড়া ইউনিটটিকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করতে এতে যুক্ত করা হচ্ছে পি-৮এ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান, সমুদ্রে মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার স্বয়ংক্রিয় চালকবিহীন রোবোটিক সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণে অভিজ্ঞ একটি বিশেষায়িত দল। এসব সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সংঘাতের সরাসরি বাইরে থেকেই আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাগরিকদের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় সিউল।

ট্যাগ : হরমুজ প্রণালি

Bangla Lead

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় নৌ উপস্থিতি বাড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী সামুদ্রিক অঞ্চলে নিজেদের নৌবাহিনীর বিশেষ জলদস্যুবিরোধী ইউনিটের কার্যক্রমের ভৌগোলিক পরিধি বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। একই সঙ্গে ওই এলাকায় নৌবহরের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ জনবল পাঠানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএস (KBS)।

দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নৌবাহিনীর বিশেষ ‘চেওংহে’ ইউনিটে নতুন করে আরও ৭৫ জন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে ইউনিটটির মোট সক্রিয় সদস্যসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৩৯৫ জনে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের মুখে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি। এমন পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাস ধরে সেখানে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়টি সিউল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে আসছিল। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং আগেই দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো অবস্থাতেই যুদ্ধে জড়ানোর উদ্দেশ্যে সেখানে সেনা পাঠানো হবে না। এমন কোনো সামরিক পদক্ষেপেও দক্ষিণ কোরিয়া অংশ নেবে না, যার ফলে দেশটি সরাসরি অন্য কোনো পরাশক্তি বা আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ পরিকল্পনাটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের আগে মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা ও প্রেসিডেন্টের অনুমোদন নেওয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি জাতীয় পরিষদে (পার্লামেন্ট) উপস্থাপন করা হবে।

২০০৯ সাল থেকে সোমালিয়ার উপকূলে এডেন উপসাগরে জলদস্যু দমন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জলসীমায় দক্ষিণ কোরীয় বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা দিতে নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে চেওংহে ইউনিট। প্রতি বছর দেশটির পার্লামেন্টের সম্মতির ভিত্তিতে এই ইউনিটের ম্যান্ডেট নবায়ন করা হয়।

কেবিএসের তথ্যানুযায়ী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউনিটটির টহল কার্যক্রম ওমানের দুকম বন্দরের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে, যা মূল হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার বা ৪০৩ দশমিক ৮ মাইল দূরত্বে অবস্থিত।

এ ছাড়া ইউনিটটিকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করতে এতে যুক্ত করা হচ্ছে পি-৮এ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান, সমুদ্রে মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার স্বয়ংক্রিয় চালকবিহীন রোবোটিক সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণে অভিজ্ঞ একটি বিশেষায়িত দল। এসব সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সংঘাতের সরাসরি বাইরে থেকেই আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাগরিকদের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় সিউল।


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড