ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
Bangla Lead

ইরান সংকটে তিন বিকল্প নিয়ে ভাবছেন ট্রাম্প: অ্যাক্সিওস



ইরান সংকটে তিন বিকল্প নিয়ে ভাবছেন ট্রাম্প: অ্যাক্সিওস
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ইরান সংকট মোকাবিলায় তিনটি পৃথক কৌশল বা বিকল্প নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের (Axios) এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা গেছে, ট্রাম্পের উচ্চপর্যায়ের উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠ মিত্ররা তাঁকে ভিন্ন তিনটি কৌশলের দিকে টানছেন। এর মধ্যে রয়েছে সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ সমাপ্তি, পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান এবং ‘যুদ্ধও নয়, চুক্তিও নয়’ নীতি বজায় রেখে চরম অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরই ট্রাম্প এ বিষয়ে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দেবেন।

অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে তিনটি স্পষ্ট বলয় গড়ে উঠেছে:

  • প্রথম পথ (কূটনৈতিক সমাধান): এই অবস্থানের নেতৃত্বে রয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। তাঁরা সংঘাত দীর্ঘায়িত না করে আলোচনার টেবিলে সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধ সমাপ্তির পক্ষে মত দিয়েছেন। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা ইতোমধ্যে দুই পক্ষকে সরাসরি টেবিলে আনতে একটি খসড়া রূপরেখা প্রস্তুত করেছেন, যাতে তিন দিনের মধ্যে কিছু পারস্পরিক আস্থা তৈরির পদক্ষেপের প্রস্তাব রয়েছে।

  • দ্বিতীয় পথ (সামরিক সংঘাত): এই অংশের মূল প্রবক্তা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তাঁরা চান ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা চিরতরে ধূলিসাৎ করতে সরাসরি বড় ধরনের সামরিক আক্রমণ চালানো হোক।

  • তৃতীয় পথ (চরম অর্থনৈতিক চাপ ও স্থিতাবস্থা): এই কৌশলে জোর দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং সিআইএ প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ। তাঁদের প্রস্তাব হলো—‘যুদ্ধও নয়, চুক্তিও নয়’ অবস্থা বজায় রাখা। অর্থাৎ বড় যুদ্ধে না জড়িয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখা, যাতে ইরান ওয়াশিংটনের শর্ত মানতে বাধ্য হয়। র‍্যাটক্লিফ ট্রাম্পকে ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে ইরানি জনগণ ক্ষোভে রাস্তায় নেমে সরকারবিরোধী অভ্যুত্থান ঘটাতে পারে, যা মূলত ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির অভ্যন্তরীণ পতনের দীর্ঘমেয়াদি পথ সুগম করবে।

উপদেষ্টারা ভিন্ন ভিন্ন পরামর্শ দিলেও ট্রাম্প এখনো কোনো নির্দিষ্ট পথের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানাননি। একদিকে তিনি কেশম দ্বীপে সীমিত হামলা ও পারস্য উপসাগরে সামরিক বহর পাঠিয়ে শক্তি প্রদর্শন করছেন, অন্যদিকে ভ্যান্সের মাধ্যমে আলোচনার পথও খোলা রেখেছেন। এদিকে সংঘাতের জেরে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের তীব্র অসন্তোষের মুখে পড়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা।

তবে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প অত্যন্ত নির্ভার থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁর কোনো তাড়াহুড়ো নেই। ট্রাম্প বলেন, "এভাবে হোক বা ওভাবে, আমরা কিছু একটা করবই। তবে আমাদের কোনো তাড়া নেই। আমরা তাদের আর্থিকভাবে পুরোপুরি পঙ্গু করে দিয়েছি; তাদের হাতে কোনো অর্থ নেই, পর্যাপ্ত গ্যাসোলিন নেই। সেখানকার সাধারণ মানুষ এসব সংকটে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।" তিনি দাবি করেন, বর্তমানে তেহরানই মার্কিন শর্তে চুক্তিতে আসার জন্য সবচেয়ে বেশি মরিয়া হয়ে উঠবে।

সূত্র: অ্যাক্সিওস 

ট্যাগ : ইরান অ্যাক্সিওস

Bangla Lead

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


ইরান সংকটে তিন বিকল্প নিয়ে ভাবছেন ট্রাম্প: অ্যাক্সিওস

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ইরান সংকট মোকাবিলায় তিনটি পৃথক কৌশল বা বিকল্প নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের (Axios) এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা গেছে, ট্রাম্পের উচ্চপর্যায়ের উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠ মিত্ররা তাঁকে ভিন্ন তিনটি কৌশলের দিকে টানছেন। এর মধ্যে রয়েছে সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ সমাপ্তি, পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান এবং ‘যুদ্ধও নয়, চুক্তিও নয়’ নীতি বজায় রেখে চরম অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরই ট্রাম্প এ বিষয়ে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দেবেন।

অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে তিনটি স্পষ্ট বলয় গড়ে উঠেছে:

  • প্রথম পথ (কূটনৈতিক সমাধান): এই অবস্থানের নেতৃত্বে রয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। তাঁরা সংঘাত দীর্ঘায়িত না করে আলোচনার টেবিলে সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধ সমাপ্তির পক্ষে মত দিয়েছেন। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা ইতোমধ্যে দুই পক্ষকে সরাসরি টেবিলে আনতে একটি খসড়া রূপরেখা প্রস্তুত করেছেন, যাতে তিন দিনের মধ্যে কিছু পারস্পরিক আস্থা তৈরির পদক্ষেপের প্রস্তাব রয়েছে।

  • দ্বিতীয় পথ (সামরিক সংঘাত): এই অংশের মূল প্রবক্তা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তাঁরা চান ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা চিরতরে ধূলিসাৎ করতে সরাসরি বড় ধরনের সামরিক আক্রমণ চালানো হোক।

  • তৃতীয় পথ (চরম অর্থনৈতিক চাপ ও স্থিতাবস্থা): এই কৌশলে জোর দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং সিআইএ প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ। তাঁদের প্রস্তাব হলো—‘যুদ্ধও নয়, চুক্তিও নয়’ অবস্থা বজায় রাখা। অর্থাৎ বড় যুদ্ধে না জড়িয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখা, যাতে ইরান ওয়াশিংটনের শর্ত মানতে বাধ্য হয়। র‍্যাটক্লিফ ট্রাম্পকে ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে ইরানি জনগণ ক্ষোভে রাস্তায় নেমে সরকারবিরোধী অভ্যুত্থান ঘটাতে পারে, যা মূলত ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির অভ্যন্তরীণ পতনের দীর্ঘমেয়াদি পথ সুগম করবে।

উপদেষ্টারা ভিন্ন ভিন্ন পরামর্শ দিলেও ট্রাম্প এখনো কোনো নির্দিষ্ট পথের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানাননি। একদিকে তিনি কেশম দ্বীপে সীমিত হামলা ও পারস্য উপসাগরে সামরিক বহর পাঠিয়ে শক্তি প্রদর্শন করছেন, অন্যদিকে ভ্যান্সের মাধ্যমে আলোচনার পথও খোলা রেখেছেন। এদিকে সংঘাতের জেরে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের তীব্র অসন্তোষের মুখে পড়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা।

তবে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প অত্যন্ত নির্ভার থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁর কোনো তাড়াহুড়ো নেই। ট্রাম্প বলেন, "এভাবে হোক বা ওভাবে, আমরা কিছু একটা করবই। তবে আমাদের কোনো তাড়া নেই। আমরা তাদের আর্থিকভাবে পুরোপুরি পঙ্গু করে দিয়েছি; তাদের হাতে কোনো অর্থ নেই, পর্যাপ্ত গ্যাসোলিন নেই। সেখানকার সাধারণ মানুষ এসব সংকটে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।" তিনি দাবি করেন, বর্তমানে তেহরানই মার্কিন শর্তে চুক্তিতে আসার জন্য সবচেয়ে বেশি মরিয়া হয়ে উঠবে।

সূত্র: অ্যাক্সিওস 


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড