ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি স্লুইসগেট এলাকায় ড্রামের ভেতর থেকে নিরঞ্জন ধর (৫৪) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান আসামি শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির দাবি, ব্যক্তিগত ভিডিও দেখিয়ে টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে নিরঞ্জনকে হত্যা করা হয়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকা থেকে শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার দুপুরে ময়মনসিংহের পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের তথ্য ও তদন্তে পাওয়া ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
পিবিআই জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে বেগুনবাড়ি স্লুইসগেট এলাকা থেকে একটি ড্রামের ভেতর বস্তাবন্দী অবস্থায় নিরঞ্জনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী সবিতা ধর কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ঘটনার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শামীমের অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত নিরঞ্জন ময়মনসিংহ নগরীর আউটার স্টেডিয়াম এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। আঠারবাড়ি রোডের একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর চারটি অটোরিকশা ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অটোরিকশাগুলো নগরীর খাগডহর এলাকার একটি গ্যারেজে রাখা হতো। শামীম ওই গ্যারেজের ম্যানেজার ছিলেন। সেই সূত্রে দুজনের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে শামীমের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন নিরঞ্জন।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে শামীম দাবি করেছেন, এক নারীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেছিলেন নিরঞ্জন। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে টাকা আদায় করা হতো। হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে এই অভিযোগের কথা জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থাটি।
পিবিআই জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে খাগডহরের ভাড়া বাসায় ছিলেন শামীম। সেখানে গিয়ে নিরঞ্জন আবার টাকা দাবি করলে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শামীম শিল ও বঁটি দিয়ে আঘাত করে নিরঞ্জনকে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
তদন্তকারী সংস্থার ভাষ্য, হত্যার পর মরদেহ চটের বস্তায় বেঁধে চাল রাখার একটি ড্রামের ভেতর রাখা হয়। পরদিন রাতে ইজিবাইকে করে ড্রামটি বেগুনবাড়ি স্লুইসগেট এলাকায় নিয়ে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
শামীমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাঁর ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা শিল ও বঁটি উদ্ধার করেছে পিবিআই। সংবাদ সম্মেলনে তাঁকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি রেকর্ডের প্রক্রিয়ার কথাও জানানো হয়। তবে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড সম্পন্ন হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।