আশুলিয়ার জামগড়ায় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ডভ্যানে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও স্বজন হারানো পরিবারগুলোতে চলছে শোক। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মেয়ের কাছে বেড়াতে আসা জয়নব বেগম এবং জীবিকার তাগিদে রাস্তায় পেঁয়াজ-রসুন বিক্রি করা নজরুল ইসলাম।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে প্রীতি গ্রুপের কারখানা চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
সরবরাহ করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৫ বছর বয়সী জয়নব বেগম কয়েক দিন আগে মেয়ের কাছে বেড়াতে এসেছিলেন। মেয়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বিস্ফোরণে ছিটকে আসা ধাতব অংশের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত নজরুল ইসলাম কারখানার সামনের রাস্তায় পেঁয়াজ-রসুন বিক্রি করতেন। বিস্ফোরণে আহত হওয়ার পর প্রথমে তাকে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বাবার খোঁজে হাসপাতালে ছুটে আসেন ছেলে সামিউল ইসলাম।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে জয়নব, বুলবুল হোসেন ও নজরুল ইসলামের পরিচয় পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের পর তাদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলিন্ডার বোঝাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফায়ার সার্ভিসের সাভার জোনের ইনচার্জ হাফিজুর রহমান। তার অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে যেভাবে সিলিন্ডারগুলো বোঝাই করা হয়েছিল, তা অবৈধ। তবে দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্তের ফল প্রয়োজন।