ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla Lead

জেমিনাইয়ের পরামর্শে পাহাড়ে গিয়ে বিপদে তিন তরুণ, রাত কাটাতে হলো গিরিখাতে



জেমিনাইয়ের পরামর্শে পাহাড়ে গিয়ে বিপদে তিন তরুণ, রাত কাটাতে হলো গিরিখাতে
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট জেমিনাইয়ের পরামর্শ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্ট শাস্তায় পর্বতারোহণে গিয়ে বিপাকে পড়েন তিন তরুণ। আট ঘণ্টার মধ্যে অভিযান শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তে তাঁদের রাত কাটাতে হয় দুর্গম একটি গিরিখাতে। এ সময় তাঁদের একজন আহতও হন। পরে উদ্ধারকর্মীরা তিনজনকেই নিরাপদে উদ্ধার করেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার রোজভিলের বাসিন্দা ওই তিন তরুণের পর্বতারোহণের অভিজ্ঞতা ছিল কম। অভিযানের প্রস্তুতির সময় তাঁরা ইউটিউব ও অলট্রেইলস অ্যাপের পাশাপাশি জেমিনাইয়ের সহায়তা নেন। কোন পথে চূড়ায় উঠবেন, কত সময় লাগবে এবং কতটা খাবার ও পানি প্রয়োজন—এসব বিষয়েও তাঁরা এআইয়ের পরামর্শ নেন।

৩০ আগস্ট প্রায় ৮ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতায় বেজক্যাম্প স্থাপনের পর পরদিন রাত ৩টার দিকে তাঁরা চূড়ার উদ্দেশে রওনা হন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল ১৪ হাজার ১৭৯ ফুট উঁচু চূড়ায় উঠে প্রায় আট ঘণ্টার মধ্যে আবার বেজক্যাম্পে ফিরে আসা।

তবে স্থানীয়দের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পরামর্শ তাঁরা উপেক্ষা করেন। বলা হয়েছিল, দুপুর ১২টার মধ্যে চূড়ায় পৌঁছাতে না পারলে ফিরে আসতে হবে। এতে দিনের আলো থাকতেই পাহাড় থেকে নেমে আসা সম্ভব হয়। কিন্তু সময়সীমা পার হয়ে গেলেও তিন তরুণ চূড়ার দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁরা চূড়ায় পৌঁছান।

এরপর অন্ধকারে পাহাড় থেকে নামতে গিয়ে বিপদ আরও বাড়ে। চূড়া থেকে নামার প্রায় এক ঘণ্টা পর তাঁরা মূল পথ হারিয়ে মাড ক্রিক ক্যানিয়নের দিকে চলে যান। প্রায় ১১ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতায় তাঁদের একজন পড়ে গিয়ে হাঁটুতে আঘাত পান।

পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ায় রাত ১২টার দিকে তাঁরা গিরিখাতেই রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু পাহাড়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে রাত কাটানোর মতো প্রস্তুতি তাঁদের ছিল না। পর্যাপ্ত খাবার ও পানি, উষ্ণ পোশাক কিংবা আশ্রয়ের ব্যবস্থাও ছিল না।

পরদিন সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করেন। দুর্গম অবস্থানের কারণে হেলিকপ্টারে উদ্ধার সম্ভব হয়নি। পরে উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে হেঁটে নিচে নামেন তাঁরা। বেলা ৩টার দিকে বেজক্যাম্পে পৌঁছানোর পর সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ দলের সহায়তায় ট্রেইলহেডের দিকে রওনা হন। শেষ পর্যন্ত তিনজনই নিরাপদে পাহাড় থেকে বেরিয়ে আসেন।

উদ্ধারের পর নিজেদের ভুল স্বীকার করেন ওই তিন তরুণ। তাঁদের ভাষ্য, নিজেদের বিচার-বুদ্ধির বদলে এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করাই ছিল বড় ভুল। বিশেষ করে খাবার ও পানির পরিমাণ নির্ধারণে এআইয়ের পরামর্শ নেওয়া তাঁদের জন্য বিপদ ডেকে আনে। আট ঘণ্টার অভিযানের হিসাব ধরে খাবার ও পানি নেওয়ায় দীর্ঘ সময়ের অভিযানে তা পর্যাপ্ত হয়নি।

তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু এআইয়ের পরামর্শই তাঁদের বিপদের কারণ নয়। নির্ধারিত সময়ের পরও চূড়ার দিকে যাওয়া, অন্ধকারে নামা, পথনির্দেশের ব্যবস্থা হারানো, মূল পথ থেকে সরে যাওয়া এবং রাত কাটানোর প্রস্তুতি না থাকাসহ একাধিক ভুল পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।

ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের উদ্ধারকর্মী নিক মেয়ার্স জানান, চলতি বছর মাউন্ট শাস্তায় এআইয়ের ওপর নির্ভর করে অভিযানের পরিকল্পনা করার পর একাধিক পর্বতারোহী ও ক্যাম্পার পথ হারিয়েছেন। তাঁর পরামর্শ, পাহাড়ে অভিযানের ক্ষেত্রে এআইয়ের তথ্যের পাশাপাশি স্থানীয় অভিজ্ঞ ব্যক্তি ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকেও তথ্য যাচাই করা জরুরি।

Bangla Lead

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জেমিনাইয়ের পরামর্শে পাহাড়ে গিয়ে বিপদে তিন তরুণ, রাত কাটাতে হলো গিরিখাতে

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট জেমিনাইয়ের পরামর্শ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্ট শাস্তায় পর্বতারোহণে গিয়ে বিপাকে পড়েন তিন তরুণ। আট ঘণ্টার মধ্যে অভিযান শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তে তাঁদের রাত কাটাতে হয় দুর্গম একটি গিরিখাতে। এ সময় তাঁদের একজন আহতও হন। পরে উদ্ধারকর্মীরা তিনজনকেই নিরাপদে উদ্ধার করেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার রোজভিলের বাসিন্দা ওই তিন তরুণের পর্বতারোহণের অভিজ্ঞতা ছিল কম। অভিযানের প্রস্তুতির সময় তাঁরা ইউটিউব ও অলট্রেইলস অ্যাপের পাশাপাশি জেমিনাইয়ের সহায়তা নেন। কোন পথে চূড়ায় উঠবেন, কত সময় লাগবে এবং কতটা খাবার ও পানি প্রয়োজন—এসব বিষয়েও তাঁরা এআইয়ের পরামর্শ নেন।

৩০ আগস্ট প্রায় ৮ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতায় বেজক্যাম্প স্থাপনের পর পরদিন রাত ৩টার দিকে তাঁরা চূড়ার উদ্দেশে রওনা হন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল ১৪ হাজার ১৭৯ ফুট উঁচু চূড়ায় উঠে প্রায় আট ঘণ্টার মধ্যে আবার বেজক্যাম্পে ফিরে আসা।

তবে স্থানীয়দের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পরামর্শ তাঁরা উপেক্ষা করেন। বলা হয়েছিল, দুপুর ১২টার মধ্যে চূড়ায় পৌঁছাতে না পারলে ফিরে আসতে হবে। এতে দিনের আলো থাকতেই পাহাড় থেকে নেমে আসা সম্ভব হয়। কিন্তু সময়সীমা পার হয়ে গেলেও তিন তরুণ চূড়ার দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁরা চূড়ায় পৌঁছান।

এরপর অন্ধকারে পাহাড় থেকে নামতে গিয়ে বিপদ আরও বাড়ে। চূড়া থেকে নামার প্রায় এক ঘণ্টা পর তাঁরা মূল পথ হারিয়ে মাড ক্রিক ক্যানিয়নের দিকে চলে যান। প্রায় ১১ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতায় তাঁদের একজন পড়ে গিয়ে হাঁটুতে আঘাত পান।

পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ায় রাত ১২টার দিকে তাঁরা গিরিখাতেই রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু পাহাড়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে রাত কাটানোর মতো প্রস্তুতি তাঁদের ছিল না। পর্যাপ্ত খাবার ও পানি, উষ্ণ পোশাক কিংবা আশ্রয়ের ব্যবস্থাও ছিল না।

পরদিন সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করেন। দুর্গম অবস্থানের কারণে হেলিকপ্টারে উদ্ধার সম্ভব হয়নি। পরে উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে হেঁটে নিচে নামেন তাঁরা। বেলা ৩টার দিকে বেজক্যাম্পে পৌঁছানোর পর সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ দলের সহায়তায় ট্রেইলহেডের দিকে রওনা হন। শেষ পর্যন্ত তিনজনই নিরাপদে পাহাড় থেকে বেরিয়ে আসেন।

উদ্ধারের পর নিজেদের ভুল স্বীকার করেন ওই তিন তরুণ। তাঁদের ভাষ্য, নিজেদের বিচার-বুদ্ধির বদলে এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করাই ছিল বড় ভুল। বিশেষ করে খাবার ও পানির পরিমাণ নির্ধারণে এআইয়ের পরামর্শ নেওয়া তাঁদের জন্য বিপদ ডেকে আনে। আট ঘণ্টার অভিযানের হিসাব ধরে খাবার ও পানি নেওয়ায় দীর্ঘ সময়ের অভিযানে তা পর্যাপ্ত হয়নি।

তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু এআইয়ের পরামর্শই তাঁদের বিপদের কারণ নয়। নির্ধারিত সময়ের পরও চূড়ার দিকে যাওয়া, অন্ধকারে নামা, পথনির্দেশের ব্যবস্থা হারানো, মূল পথ থেকে সরে যাওয়া এবং রাত কাটানোর প্রস্তুতি না থাকাসহ একাধিক ভুল পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।

ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের উদ্ধারকর্মী নিক মেয়ার্স জানান, চলতি বছর মাউন্ট শাস্তায় এআইয়ের ওপর নির্ভর করে অভিযানের পরিকল্পনা করার পর একাধিক পর্বতারোহী ও ক্যাম্পার পথ হারিয়েছেন। তাঁর পরামর্শ, পাহাড়ে অভিযানের ক্ষেত্রে এআইয়ের তথ্যের পাশাপাশি স্থানীয় অভিজ্ঞ ব্যক্তি ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকেও তথ্য যাচাই করা জরুরি।


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড