ঢাকা    শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
Bangla Lead

সীমান্তের ওপার থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা: প্রধানমন্ত্রী



সীমান্তের ওপার থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি পোশাকশ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির আড়ালে আত্মগোপন করে সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে বাংলাদেশে সুপরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, প্রকৃত শ্রমজীবী মানুষ বা শ্রমিক ভাই-বোনেরা কখনই নিজেদের রুটি-রুজির উৎস কারখানা ও যন্ত্রপাতির ক্ষতি করতে পারেন না। কিন্তু একটি চিহ্নিত কুচক্রী মহল বিভিন্ন শিল্পকারখানায় অনুপ্রবেশ করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভাঙচুর চালাচ্ছে এবং জাতীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের অপচেষ্টায় মেতে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কের ব্যস্ত কাটাখালী মোড়ে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি চিহ্নিত মহল দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর একটানা ক্ষমতায় থেকেও দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি। তারা জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের বিপুল সম্পদ নির্বিচারে লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে যারা শেষ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, তারাই এখন নিরাপদ দূরত্বে থেকে সীমান্তের ওপার থেকে নাশকতার কলকাঠি নাড়ছে এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি বিনষ্ট করতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা করছে।’

পোশাকশ্রমিকদের জীবনমান ও চলমান অস্থিরতার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, শ্রমিক ভাই-বোনদের মজুরি নিয়ে কিছু বাস্তবসম্মত দাবি-দাওয়া রয়েছে এবং সরকার সে বিষয়ে সম্পূর্ণ সচেতন ও আন্তরিক। তাদের এসব দাবি বিবেচনা ও পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার জন্যই ইতোমধ্যে সরকার আনুষ্ঠানিক মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং সেই বোর্ড পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি আশ্বস্ত করে জানান, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই মজুরি বোর্ড একটি গ্রহণযোগ্য ও নতুন নিম্নতম মজুরি চূড়ান্ত করবে, যাতে শ্রমিক সমাজ পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারে।

বাগেরহাট জেলা বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। তাঁদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহণ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপি নেতা শেখ কামরুল ইসলাম গোরা, কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল এবং সোমনাথ দেসহ স্থানীয় বিএনপি ও এর সকল অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী পার্শ্ববর্তী ঐতিহাসিক সুফি সাধক হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে যান এবং সেখানে জিয়ারত ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় খুলনা-মোংলা মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে বাগেরহাট জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

ট্যাগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Bangla Lead

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


সীমান্তের ওপার থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি পোশাকশ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির আড়ালে আত্মগোপন করে সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে বাংলাদেশে সুপরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, প্রকৃত শ্রমজীবী মানুষ বা শ্রমিক ভাই-বোনেরা কখনই নিজেদের রুটি-রুজির উৎস কারখানা ও যন্ত্রপাতির ক্ষতি করতে পারেন না। কিন্তু একটি চিহ্নিত কুচক্রী মহল বিভিন্ন শিল্পকারখানায় অনুপ্রবেশ করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভাঙচুর চালাচ্ছে এবং জাতীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের অপচেষ্টায় মেতে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কের ব্যস্ত কাটাখালী মোড়ে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি চিহ্নিত মহল দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর একটানা ক্ষমতায় থেকেও দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি। তারা জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের বিপুল সম্পদ নির্বিচারে লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে যারা শেষ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, তারাই এখন নিরাপদ দূরত্বে থেকে সীমান্তের ওপার থেকে নাশকতার কলকাঠি নাড়ছে এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি বিনষ্ট করতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা করছে।’

পোশাকশ্রমিকদের জীবনমান ও চলমান অস্থিরতার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, শ্রমিক ভাই-বোনদের মজুরি নিয়ে কিছু বাস্তবসম্মত দাবি-দাওয়া রয়েছে এবং সরকার সে বিষয়ে সম্পূর্ণ সচেতন ও আন্তরিক। তাদের এসব দাবি বিবেচনা ও পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার জন্যই ইতোমধ্যে সরকার আনুষ্ঠানিক মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং সেই বোর্ড পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি আশ্বস্ত করে জানান, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই মজুরি বোর্ড একটি গ্রহণযোগ্য ও নতুন নিম্নতম মজুরি চূড়ান্ত করবে, যাতে শ্রমিক সমাজ পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারে।

বাগেরহাট জেলা বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। তাঁদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহণ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপি নেতা শেখ কামরুল ইসলাম গোরা, কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল এবং সোমনাথ দেসহ স্থানীয় বিএনপি ও এর সকল অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী পার্শ্ববর্তী ঐতিহাসিক সুফি সাধক হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে যান এবং সেখানে জিয়ারত ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় খুলনা-মোংলা মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে বাগেরহাট জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড