ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান পরিচালনা নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের অভিশংসনের জোর দাবির মুখে তাঁর পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হেগসেথের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে তিনি পেন্টাগনে ‘চমৎকার কাজ করেছেন’।
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনার জবাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রতি নিজের এই অকুণ্ঠ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সংবাদ সম্মেলনে পিট হেগসেথের গৃহীত বিভিন্ন সামরিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে হেগসেথ পেন্টাগনে বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী সংস্কার এনেছেন। এর মধ্যে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পদ থেকে তথাকথিত ‘ওয়োক’ (উদারপন্থী ও প্রগতিশীল মূল্যবোধে বিশ্বাসী) জেনারেলদের অপসারণের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। কড়া ভাষায় ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কোনো ওয়োক জেনারেল পছন্দ করি না।’ তাঁর মতে, হেগসেথ সামরিক বাহিনীকে অপ্রয়োজনীয় সামাজিক রাজনীতি থেকে মুক্ত করে খাঁটি যুদ্ধসক্ষম প্রতিষ্ঠানে রূপ দিচ্ছেন।
এ ছাড়া হেগসেথের অতীত সামরিক দক্ষতার উদাহরণ টানতে গিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর নির্দেশনায় ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানটি মাত্র ৪৮ মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছিল।
ইরানের সঙ্গে চলমান তীব্র সামরিক সংঘাত প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান নামের একটি দেশের সঙ্গে এখন আমাদের সরাসরি যুদ্ধ চলছে। দেশটি ভৌগোলিকভাবে খুব সুন্দর, তবে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ও প্রণালিগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন আমাদের সামরিক বাহিনীর হাতে রয়েছে।’ এ সময় যুদ্ধের তীব্রতা নিয়ে সমালোচকদের দাবি উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সংঘাতপূর্ণ এ পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাসে কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি।
উল্লেখ্য, কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের জয়লাভের পর ওয়াশিংটনে ইরান যুদ্ধের কৌশল ও বিপুল ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চরম আকার ধারণ করেছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের একাংশ যুদ্ধনীতিতে বিভ্রান্তি ও কৌশলগত ব্যর্থতার অভিযোগ এনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের দলের ধাক্কা সত্ত্বেও প্রশাসনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীর পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দিলেন যে, পেন্টাগনের বর্তমান যুদ্ধনীতিতে তিনি কোনো পরিবর্তন আনছেন না।