ঢাকা    শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
Bangla Lead

মার্কিন হামলা সত্ত্বেও উদীয়মান মহাকাশ শক্তি ইরান: পেন্টাগন



মার্কিন হামলা সত্ত্বেও উদীয়মান মহাকাশ শক্তি ইরান: পেন্টাগন
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিধ্বংসী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সত্ত্বেও দেশটি মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের সামরিক আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম একটি ‘উদীয়মান মহাকাশ শক্তি’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের প্রধান সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (ডিআইএ) এক বিশদ গোপন ও মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তুরস্কের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

ডিআইএর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র সময় ইরান তাদের শক্তিশালী ভূমি-ভিত্তিক উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিক জ্যামিং ব্যবস্থার মাধ্যমে মার্কিন স্যাটেলাইটভিত্তিক জিপিএস (GPS) সংকেত সফলভাবে ব্যাহত করেছিল। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের মহাকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোর ওপর কার্যকর ও আক্রমণাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলে তেহরান।

গোয়েন্দা নথিতে বলা হয়েছে, সামরিক আঘাত প্রতিহত করার সক্ষমতা জোরদার, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বিকাশ এবং জাতীয় মর্যাদা সুসংহত করার কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে তেহরান তাদের সামরিক ও বেসামরিক উভয় মহাকাশ কর্মসূচি সমানতালে সম্প্রসারিত করে চলেছে। এ প্রসঙ্গে মার্কিন স্পেস ফোর্সেস সেন্ট্রালের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল টড বেনসন সতর্ক করে জানান, আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে মহাকাশ এখন যেকোনো আঞ্চলিক শক্তির জন্যই আগের চেয়ে অনেক বেশি অভিগম্য এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে।

মার্কিন প্রভাবশালী থিংকট্যাংক আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (এইআই) গবেষণা তথ্যানুযায়ী, মহাকাশের কক্ষপথে ইরানের বর্তমানে অন্তত এক ডজন অত্যন্ত সক্রিয় কৃত্রিম উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) অবস্থান করছে। এ ছাড়া নিজস্ব নজরদারি, সামরিক লক্ষ্যবস্তু নির্ভুলভাবে নির্ধারণ এবং রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পরিধি বিস্তৃত করতে তেহরান কৌশলগত মিত্র রাশিয়া ও চীন থেকেও কার্যকর স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ও তথ্যগত সহায়তা পাচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ওপর ‘মহাকাশ শ্রেষ্ঠত্ব’ (space superiority) বজায় রাখার দাবি করে এলেও পেন্টাগনের নিজস্ব প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা এখন তা নিয়ে প্রকাশ্য সংশয় প্রকাশ করছেন। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের অ্যারোস্পেস বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ টড হ্যারিসন মন্তব্য করেন, মার্কিন সামরিক মহাকাশ সক্ষমতা ও নেভিগেশন নেটওয়ার্ককে ব্যাহত বা দুর্বল করে দেওয়ার মতো প্রযুক্তিগত শক্তি যদি ইরানের হাতে থাকে, তবে বাস্তবে তাদের ওপর ওয়াশিংটনের নিরঙ্কুশ মহাকাশ শ্রেষ্ঠত্ব আর কার্যকর নেই।

ডিআইএ আরও সতর্ক করেছে যে, ভবিষ্যৎ সংঘাত মাথায় রেখে ইরান তাদের নিজস্ব মিসাইল গাইডেন্স ও নেভিগেশন সিস্টেমগুলোকে শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক আক্রমণ থেকে সুরক্ষায় প্রতিরোধী অ্যালগরিদম ও শক্ত বর্ম তৈরিতে কাজ করছে। এর মাধ্যমে তেহরান স্যাটেলাইটনির্ভর প্রযুক্তিগত পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতাকে যেকোনো ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের বিরুদ্ধে শতভাগ কার্যকর রাখার চূড়ান্ত সক্ষমতা অর্জন করতে চাইছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি 

ট্যাগ : পেন্টাগন

Bangla Lead

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


মার্কিন হামলা সত্ত্বেও উদীয়মান মহাকাশ শক্তি ইরান: পেন্টাগন

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিধ্বংসী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সত্ত্বেও দেশটি মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের সামরিক আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম একটি ‘উদীয়মান মহাকাশ শক্তি’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের প্রধান সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (ডিআইএ) এক বিশদ গোপন ও মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তুরস্কের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

ডিআইএর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র সময় ইরান তাদের শক্তিশালী ভূমি-ভিত্তিক উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিক জ্যামিং ব্যবস্থার মাধ্যমে মার্কিন স্যাটেলাইটভিত্তিক জিপিএস (GPS) সংকেত সফলভাবে ব্যাহত করেছিল। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের মহাকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোর ওপর কার্যকর ও আক্রমণাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলে তেহরান।

গোয়েন্দা নথিতে বলা হয়েছে, সামরিক আঘাত প্রতিহত করার সক্ষমতা জোরদার, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বিকাশ এবং জাতীয় মর্যাদা সুসংহত করার কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে তেহরান তাদের সামরিক ও বেসামরিক উভয় মহাকাশ কর্মসূচি সমানতালে সম্প্রসারিত করে চলেছে। এ প্রসঙ্গে মার্কিন স্পেস ফোর্সেস সেন্ট্রালের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল টড বেনসন সতর্ক করে জানান, আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে মহাকাশ এখন যেকোনো আঞ্চলিক শক্তির জন্যই আগের চেয়ে অনেক বেশি অভিগম্য এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে।

মার্কিন প্রভাবশালী থিংকট্যাংক আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (এইআই) গবেষণা তথ্যানুযায়ী, মহাকাশের কক্ষপথে ইরানের বর্তমানে অন্তত এক ডজন অত্যন্ত সক্রিয় কৃত্রিম উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) অবস্থান করছে। এ ছাড়া নিজস্ব নজরদারি, সামরিক লক্ষ্যবস্তু নির্ভুলভাবে নির্ধারণ এবং রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পরিধি বিস্তৃত করতে তেহরান কৌশলগত মিত্র রাশিয়া ও চীন থেকেও কার্যকর স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ও তথ্যগত সহায়তা পাচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ওপর ‘মহাকাশ শ্রেষ্ঠত্ব’ (space superiority) বজায় রাখার দাবি করে এলেও পেন্টাগনের নিজস্ব প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা এখন তা নিয়ে প্রকাশ্য সংশয় প্রকাশ করছেন। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের অ্যারোস্পেস বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ টড হ্যারিসন মন্তব্য করেন, মার্কিন সামরিক মহাকাশ সক্ষমতা ও নেভিগেশন নেটওয়ার্ককে ব্যাহত বা দুর্বল করে দেওয়ার মতো প্রযুক্তিগত শক্তি যদি ইরানের হাতে থাকে, তবে বাস্তবে তাদের ওপর ওয়াশিংটনের নিরঙ্কুশ মহাকাশ শ্রেষ্ঠত্ব আর কার্যকর নেই।

ডিআইএ আরও সতর্ক করেছে যে, ভবিষ্যৎ সংঘাত মাথায় রেখে ইরান তাদের নিজস্ব মিসাইল গাইডেন্স ও নেভিগেশন সিস্টেমগুলোকে শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক আক্রমণ থেকে সুরক্ষায় প্রতিরোধী অ্যালগরিদম ও শক্ত বর্ম তৈরিতে কাজ করছে। এর মাধ্যমে তেহরান স্যাটেলাইটনির্ভর প্রযুক্তিগত পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতাকে যেকোনো ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের বিরুদ্ধে শতভাগ কার্যকর রাখার চূড়ান্ত সক্ষমতা অর্জন করতে চাইছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি 


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড