যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের প্রধান এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত হারমিত ধিলন পদত্যাগ করেছেন। নিজের দায়িত্ব পালনকালে বিভাগটির প্রথাগত নীতি ও কাঠামোয় বিতর্কিত পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ আনুষ্ঠানিকভাবে হারমিত ধিলনের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের (সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ) নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করার পর ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে হারমিত ধিলনই প্রথম পদত্যাগকারীদের একজন হিসেবে সামনে এলেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পদত্যাগপত্রে ধিলন উল্লেখ করেন, দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে গত অক্টোবরেই তিনি হোয়াইট হাউসকে তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা অবহিত করেছিলেন। পদত্যাগের পর তিনি নিজের পুরোনো ল ফার্ম ‘দ্য ধিলন ল গ্রুপ’-এ ফিরে যাবেন বলে তাঁর মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন। তবে বিচার বিভাগের অভ্যন্তরীন দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, প্রশাসনে প্রত্যাশিত পদোন্নতি না পাওয়ায় ধিলন ব্যক্তিগতভাবে হতাশ ছিলেন এবং সে কারণেই নিজের ব্যক্তিগত আইন ব্যবসাকে আবার গতিশীল করতে পদত্যাগের পথ বেছে নিয়েছেন।
ধিলনের কার্যকালে মার্কিন বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগে বড় ধরনের নীতিগত পুনর্গঠন করা হয়। ঐতিহাসিকভাবে বিভাগটি ভোটাধিকার সুরক্ষা ও বর্ণবৈষম্য দূরীকরণে নিয়োজিত থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসনের এজেন্ডা অনুযায়ী এর পুরো অভিমুখ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ‘বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি’ (ডিইআই) উদ্যোগকে আইনি চ্যালেঞ্জ করা, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইহুদিবিদ্বেষ তদন্ত, রূপান্তরকামী (হিজড়া) ব্যক্তিদের অধিকার খর্ব এবং প্রকাশ্যে অস্ত্র বহনের অধিকার সুরক্ষার মতো রক্ষণশীল মামলাগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এর ফলে বিভাগের কয়েক দশকের অভিজ্ঞ বহু পেশাদার আইনজীবী ও কর্মকর্তা ক্ষোভে চাকরি ছেড়ে দেন। ধিলন অবশ্য দাবি করেন, আগের আইনজীবীরা উদারপন্থীদের স্বার্থ রক্ষা করতেন, যা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির পরিপন্থি ছিল।
পদত্যাগের ঘোষণায় নিজের মেয়াদকে অত্যন্ত সফল দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধিলন লেখেন, তথাকথিত ‘অবৈধ ডিইআই’ কার্যক্রমের পতন ঘটানো এবং মেয়েদের খেলায় রক্ষণশীল অধিকার সুরক্ষায় তাঁরা লড়াই চালিয়েছেন। তবে নাগরিক অধিকার কর্মীদের মতে তাঁর মেয়াদ ছিল ধ্বংসাত্মক। নাগরিক অধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস কানেকশন’-এর প্রধান স্টেসি ইয়ং ধিলনের তীব্র সমালোচনা করে মন্তব্য করেন, প্রায় ৭০ বছর ধরে সাধারণ নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষায় কাজ করা ঐতিহ্যবাহী এই বিভাগকে ধিলন কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপরও ব্যাপক রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছিলেন ধিলন। তাঁর নির্দেশে ডজনখানেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে শত শত মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয় এবং ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। যদিও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন চাপ প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়া ঠেকানোর নামে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বিরুদ্ধে মামলা ও ভোটকেন্দ্রে এক হাজার কর্মী মোতায়েন, ট্রাম্পবিরোধী সাবেক সিএনএন উপস্থাপক ডন লেমন এবং ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল তদন্তে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া ক্যাসিডি হাচিনসনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার মতো বিতর্কিত পদক্ষেপের কেন্দ্রে ছিলেন হারমিত ধিলন।
সূত্র: রয়টার্স