ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla Lead

সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া



সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

উত্তর কোরিয়া এবার সাবমেরিন থেকে দুই ধরনের কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।

বুধবার, ১৪ অক্টোবর দেশটির পূর্ব উপকূলের সমুদ্রে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ।

পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল পানির নিচে থাকা যুদ্ধব্যবস্থার প্রস্তুতি যাচাই করা, নৌবাহিনীর কৌশলগত অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানো এবং দেশটির যুদ্ধ প্রতিরোধ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা পরীক্ষা করা।

পরীক্ষায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি ছিল ‘পুলহওয়াসাল-৩-৩১’। এর আগে স্থলভাগ থেকেও একই ধরনের কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথা জানিয়েছিল উত্তর কোরিয়া।

তবে এবার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সাবমেরিন থেকে ছোড়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা উৎক্ষেপণগুলো শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভিন্ন ধরনের লঞ্চ টিউব ব্যবহার করে ছোড়া হয়ে থাকতে পারে। 

উত্তর কোরিয়ার সাবমেরিনভিত্তিক অস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম সাবমেরিনকে কার্যকরভাবে সামরিক ব্যবস্থায় যুক্ত করা পিয়ংইয়ংয়ের অন্যতম বড় লক্ষ্য।

এবারের পরীক্ষায় সেই সক্ষমতা বাস্তবে কতটা অর্জিত হয়েছে, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

কারণ, উত্তর কোরিয়া ২০২৩ সালে প্রায় ৩ হাজার টন শ্রেণির ‘হিরো কিম কুন ওক’ সাবমেরিন উন্মোচন করেছিল। সাম্প্রতিক পরীক্ষাটি ওই সাবমেরিন থেকেই হয়ে থাকতে পারে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে উত্তর কোরিয়া পরীক্ষায় ব্যবহৃত সাবমেরিনের নাম প্রকাশ করেনি। 

আরও একটি বিষয় নজর কেড়েছে। প্রায় তিন বছর পর উত্তর কোরিয়ার সাবমেরিন থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের খবর এলো। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সর্বশেষ এমন পরীক্ষার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিল পিয়ংইয়ং। 

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তর কোরিয়া একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে। ১২ অক্টোবরও দেশটি পূর্ব উপকূলের দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। এর আগে ৩ অক্টোবর হাইপারসনিক মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথাও জানিয়েছিল পিয়ংইয়ং। 

এর মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়াও নিজেদের হাইপারসনিক অস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। ফলে দুই কোরিয়ার সামরিক প্রতিযোগিতা নতুন করে উত্তপ্ত হচ্ছে।

সাবমেরিন থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা উত্তর কোরিয়ার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় সমুদ্রের নিচে থাকা প্ল্যাটফর্মকে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। ফলে এটি ভবিষ্যতে পিয়ংইয়ংয়ের পাল্টা হামলার সক্ষমতাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। 

তবে শুধু পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফল হলেই একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যকর সাবমেরিনভিত্তিক অস্ত্রব্যবস্থা তৈরি হয়ে যায় না। সাবমেরিনের দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্ষমতা, নির্ভরযোগ্যতা, গোপনে চলাচল এবং নিয়মিত অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা এখনও বড় প্রশ্ন।

ট্যাগ : উত্তর কোরিয়া সাবমেরিন

Bangla Lead

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

উত্তর কোরিয়া এবার সাবমেরিন থেকে দুই ধরনের কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।

বুধবার, ১৪ অক্টোবর দেশটির পূর্ব উপকূলের সমুদ্রে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ।

পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল পানির নিচে থাকা যুদ্ধব্যবস্থার প্রস্তুতি যাচাই করা, নৌবাহিনীর কৌশলগত অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানো এবং দেশটির যুদ্ধ প্রতিরোধ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা পরীক্ষা করা।

পরীক্ষায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি ছিল ‘পুলহওয়াসাল-৩-৩১’। এর আগে স্থলভাগ থেকেও একই ধরনের কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথা জানিয়েছিল উত্তর কোরিয়া।

তবে এবার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সাবমেরিন থেকে ছোড়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা উৎক্ষেপণগুলো শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভিন্ন ধরনের লঞ্চ টিউব ব্যবহার করে ছোড়া হয়ে থাকতে পারে। 

উত্তর কোরিয়ার সাবমেরিনভিত্তিক অস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম সাবমেরিনকে কার্যকরভাবে সামরিক ব্যবস্থায় যুক্ত করা পিয়ংইয়ংয়ের অন্যতম বড় লক্ষ্য।

এবারের পরীক্ষায় সেই সক্ষমতা বাস্তবে কতটা অর্জিত হয়েছে, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

কারণ, উত্তর কোরিয়া ২০২৩ সালে প্রায় ৩ হাজার টন শ্রেণির ‘হিরো কিম কুন ওক’ সাবমেরিন উন্মোচন করেছিল। সাম্প্রতিক পরীক্ষাটি ওই সাবমেরিন থেকেই হয়ে থাকতে পারে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে উত্তর কোরিয়া পরীক্ষায় ব্যবহৃত সাবমেরিনের নাম প্রকাশ করেনি। 

আরও একটি বিষয় নজর কেড়েছে। প্রায় তিন বছর পর উত্তর কোরিয়ার সাবমেরিন থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের খবর এলো। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সর্বশেষ এমন পরীক্ষার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিল পিয়ংইয়ং। 

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তর কোরিয়া একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে। ১২ অক্টোবরও দেশটি পূর্ব উপকূলের দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। এর আগে ৩ অক্টোবর হাইপারসনিক মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথাও জানিয়েছিল পিয়ংইয়ং। 

এর মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়াও নিজেদের হাইপারসনিক অস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। ফলে দুই কোরিয়ার সামরিক প্রতিযোগিতা নতুন করে উত্তপ্ত হচ্ছে।

সাবমেরিন থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা উত্তর কোরিয়ার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় সমুদ্রের নিচে থাকা প্ল্যাটফর্মকে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। ফলে এটি ভবিষ্যতে পিয়ংইয়ংয়ের পাল্টা হামলার সক্ষমতাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। 

তবে শুধু পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফল হলেই একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যকর সাবমেরিনভিত্তিক অস্ত্রব্যবস্থা তৈরি হয়ে যায় না। সাবমেরিনের দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্ষমতা, নির্ভরযোগ্যতা, গোপনে চলাচল এবং নিয়মিত অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা এখনও বড় প্রশ্ন।


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড