ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla Lead

‘সৌদি আরবে হামলার জন্য ইরাকের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না’



‘সৌদি আরবে হামলার জন্য ইরাকের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না’
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

সৌদি আরব কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশে হামলা চালানোর জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে এমনই স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদি।

বুধবার, ১৪ অক্টোবর সৌদি আরব সফরে গিয়ে যুবরাজের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী। গত মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল সৌদিতে তার প্রথম সফর।

বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়। ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, প্রতিবেশী কোনো দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। 

এই আশ্বাসের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক একটি গুরুতর ঘটনা।

গত মাসে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা হয়েছিল। সৌদি আরব দাবি করেছিল, হামলাটি ইরাকের ভূখণ্ড থেকে চালানো হয়েছে। পরে বাগদাদের নিজস্ব তদন্তেও হামলাটি ইরাক থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে সিদ্ধান্তে আসার কথা জানানো হয়। 

হামলার কারণে সৌদি আরবকে সাময়িকভাবে ওই তেল রপ্তানি পথ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। পাইপলাইনটির দৈনিক সর্বোচ্চ পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল। পরে সেটি আবার চালু করা হয়। 

ফলে রিয়াদে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়। আঞ্চলিক নিরাপত্তার দিক থেকেও এর গুরুত্ব রয়েছে।

বিশেষ করে সৌদি আরব যখন ইয়েমেনের হুথিদের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে রয়েছে, তখন ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো হামলা হলে সেটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

আল-জাইদি জানিয়েছেন, ইরাক তার ভূখণ্ডকে সৌদি আরব বা অঞ্চলের অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলার ঘাঁটি হতে দেবে না। একই সঙ্গে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক, সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং ভালো প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। 

এর আগে অবশ্য ইরাক ও সৌদি আরবের মধ্যে এ বিষয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। জুলাইয়ে ইরাকে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে সৌদি ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বাগদাদ সৌদি-আমেরিকান পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছিল। তখন ইরাকের পক্ষ থেকে সৌদি আরবে হামলা ইরাকের ভূখণ্ড থেকে হয়েছে, এমন দাবির পক্ষে প্রমাণ চাওয়া হয়েছিল। 

পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের যোগাযোগ বাড়ে। আর এখন সৌদি সফরে গিয়ে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জানালেন, তার দেশের মাটি আর কোনো আঞ্চলিক হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

তবে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ ইরাকে ইরান-ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। ফলে বাগদাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ট্যাগ : সৌদি আরব ইরাক

Bangla Lead

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


‘সৌদি আরবে হামলার জন্য ইরাকের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না’

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সৌদি আরব কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশে হামলা চালানোর জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে এমনই স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদি।

বুধবার, ১৪ অক্টোবর সৌদি আরব সফরে গিয়ে যুবরাজের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী। গত মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল সৌদিতে তার প্রথম সফর।

বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়। ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, প্রতিবেশী কোনো দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। 

এই আশ্বাসের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক একটি গুরুতর ঘটনা।

গত মাসে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা হয়েছিল। সৌদি আরব দাবি করেছিল, হামলাটি ইরাকের ভূখণ্ড থেকে চালানো হয়েছে। পরে বাগদাদের নিজস্ব তদন্তেও হামলাটি ইরাক থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে সিদ্ধান্তে আসার কথা জানানো হয়। 

হামলার কারণে সৌদি আরবকে সাময়িকভাবে ওই তেল রপ্তানি পথ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। পাইপলাইনটির দৈনিক সর্বোচ্চ পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল। পরে সেটি আবার চালু করা হয়। 

ফলে রিয়াদে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়। আঞ্চলিক নিরাপত্তার দিক থেকেও এর গুরুত্ব রয়েছে।

বিশেষ করে সৌদি আরব যখন ইয়েমেনের হুথিদের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে রয়েছে, তখন ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো হামলা হলে সেটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

আল-জাইদি জানিয়েছেন, ইরাক তার ভূখণ্ডকে সৌদি আরব বা অঞ্চলের অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলার ঘাঁটি হতে দেবে না। একই সঙ্গে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক, সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং ভালো প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। 

এর আগে অবশ্য ইরাক ও সৌদি আরবের মধ্যে এ বিষয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। জুলাইয়ে ইরাকে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে সৌদি ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বাগদাদ সৌদি-আমেরিকান পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছিল। তখন ইরাকের পক্ষ থেকে সৌদি আরবে হামলা ইরাকের ভূখণ্ড থেকে হয়েছে, এমন দাবির পক্ষে প্রমাণ চাওয়া হয়েছিল। 

পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের যোগাযোগ বাড়ে। আর এখন সৌদি সফরে গিয়ে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জানালেন, তার দেশের মাটি আর কোনো আঞ্চলিক হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

তবে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ ইরাকে ইরান-ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। ফলে বাগদাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড