বিশ্বকাপে গোল করেও হারল ইরাক, তবু আলো ছড়ালেন আয়মান হুসেই
জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে নতুন অধ্যায় লিখলেন ইরাকের ৩০ বছর বয়সী স্ট্রাইকার আয়মান হুসেইন। শক্তিশালী নরওয়ের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ইরাক ১-৪ গোলে হেরে গেলেও দলের একমাত্র গোলটি আসে তার পা থেকে।ম্যাচ শেষে ইরাকের প্রধান কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড বলেন, বক্সের ভেতরে হুসেইনকে থামানো অত্যন্ত কঠিন। তিনি খেলোয়াড়টির পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি ও গর্ব প্রকাশ করেন।ইরাকের কঠিন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটময় পরিবেশে বেড়ে ওঠা হুসেইনের জীবনে ফুটবল ছিল একমাত্র আশ্রয়। শিয়া-সুন্নি সংঘাত এবং সহিংস অস্থিরতার সময়েও দেশের ফুটবলাররা নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন।২০০৮ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে বাবাকে হারান হুসেইন, যিনি ইরাকি সেনাসদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে তার বড় ভাই অপহৃত হন এবং এখনো তার খোঁজ মেলেনি। এসব ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি তাকে আরও দৃঢ় করে তোলে বলে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি।এক পর্যায়ে পরিবারকে সহায়তা করতে ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি, তবে মায়ের উৎসাহে আবারও খেলায় ফিরে আসেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেক ঘটে তার।বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও ছিলেন ইরাকের অন্যতম ভরসা। প্লে-অফসহ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার গোলই দলকে বিশ্বকাপে পৌঁছাতে বড় ভূমিকা রাখে। চলতি বাছাইপর্বে তিনি ১২টি গোল করেন, যা দলের অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।চলতি বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর শিকাগো বিমানবন্দরে তাকে প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখেও পড়তে হয় বলে জানা যায়। তবে মাঠে নেমে সেই চাপের জবাবই যেন দেন তিনি।নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তার হেড থেকে আসা একমাত্র গোলটি ইরাকের জন্য স্বস্তির মুহূর্ত এনে দেয়, যদিও শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে হার মানতে হয় দলটিকে।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রুপ-পর্বে ফ্রান্স ও সেনেগালের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেললেও আয়মান হুসেইনের ফর্ম ইরাকের জন্য এখনো আশা জাগাচ্ছে