ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla Lead

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তানি হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ



প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তানি হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

বাংলাদেশে ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদনের কারখানা স্থাপন থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ দেখিয়েছে পাকিস্তান।

বুধবার, ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। এ সময় দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলোর একটি ছিল ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদন। পাকিস্তানের শিয়ালকোটের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের যৌথ উদ্যোগে দেশে কারখানা স্থাপনের বিষয়ে আগ্রহ দেখানো হয়।

এ ধরনের উদ্যোগে টেনিস বলসহ বিভিন্ন ধরনের বল ও অন্যান্য ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি দুই দেশের ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতেও নতুন সহযোগিতার প্রস্তাব এসেছে। বাংলাদেশের লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সঙ্গে পাকিস্তানের ন্যাশনাল স্কুল অব পাবলিক পলিসি এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির সঙ্গে পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিস একাডেমির সমঝোতা স্মারক করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ১২ জন সরকারি কর্মকর্তা পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। আরও ৩৫ জনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

বাণিজ্যেও সম্ভাবনার কয়েকটি ক্ষেত্র তুলে ধরা হয়েছে। পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের চা, আনারস ও চিংড়ি রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার মেট্রিক টন চা শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগের কথাও জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতেও এসেছে নতুন প্রস্তাব। পাকিস্তানের একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর ১০ জন বাংলাদেশি রোগীর বিনামূল্যে লিভার প্রতিস্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি চিকিৎসক ও নার্সদের লিভার প্রতিস্থাপন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ওষুধশিল্প, পর্যটন, পাট, শিক্ষা ও বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়টিকেও জনগণের যোগাযোগ ও সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

বৈঠকে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে, আলোচনায় উঠে আসা উদ্যোগগুলোর বড় অংশই এখনো প্রস্তাব, আগ্রহ বা সহযোগিতার সম্ভাবনা পর্যায়ে রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ, সমঝোতা ও চুক্তির প্রয়োজন হবে।

ট্যাগ : বাংলাদেশ

Bangla Lead

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তানি হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদনের কারখানা স্থাপন থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ দেখিয়েছে পাকিস্তান।

বুধবার, ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। এ সময় দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলোর একটি ছিল ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদন। পাকিস্তানের শিয়ালকোটের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের যৌথ উদ্যোগে দেশে কারখানা স্থাপনের বিষয়ে আগ্রহ দেখানো হয়।

এ ধরনের উদ্যোগে টেনিস বলসহ বিভিন্ন ধরনের বল ও অন্যান্য ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি দুই দেশের ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতেও নতুন সহযোগিতার প্রস্তাব এসেছে। বাংলাদেশের লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সঙ্গে পাকিস্তানের ন্যাশনাল স্কুল অব পাবলিক পলিসি এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির সঙ্গে পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিস একাডেমির সমঝোতা স্মারক করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ১২ জন সরকারি কর্মকর্তা পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। আরও ৩৫ জনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

বাণিজ্যেও সম্ভাবনার কয়েকটি ক্ষেত্র তুলে ধরা হয়েছে। পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের চা, আনারস ও চিংড়ি রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার মেট্রিক টন চা শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগের কথাও জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতেও এসেছে নতুন প্রস্তাব। পাকিস্তানের একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর ১০ জন বাংলাদেশি রোগীর বিনামূল্যে লিভার প্রতিস্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি চিকিৎসক ও নার্সদের লিভার প্রতিস্থাপন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ওষুধশিল্প, পর্যটন, পাট, শিক্ষা ও বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়টিকেও জনগণের যোগাযোগ ও সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

বৈঠকে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে, আলোচনায় উঠে আসা উদ্যোগগুলোর বড় অংশই এখনো প্রস্তাব, আগ্রহ বা সহযোগিতার সম্ভাবনা পর্যায়ে রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ, সমঝোতা ও চুক্তির প্রয়োজন হবে।


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড