দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার কয়েক দিনের মধ্যেই সাগর অভিমুখে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। সোমবার (১২ অক্টোবর) পিয়ংইয়ংয়ের আশপাশের এলাকা থেকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র পূর্ব উপকূলের সাগরের দিকে নিক্ষেপ করা হয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের মুখপাত্র জ্যাং দো-ইয়ং জানান, বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র ৯০০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করে সাগরে পড়ে।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে। এগুলো জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে সাগরে পড়েছে বলে জানিয়েছে টোকিও। কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের ধারণা, সম্প্রতি তাদের প্রথম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার প্রতিক্রিয়াতেও উত্তর কোরিয়া এই উৎক্ষেপণ করে থাকতে পারে। জ্যাং দো-ইয়ং বলেন, এটি শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়নের প্রচেষ্টা বলে মনে হচ্ছে। তবে সর্বশেষ উৎক্ষেপণে উত্তর কোরিয়া নতুন করে হাইপারসনিক প্রযুক্তি পরীক্ষা করেছে কি না, তা এখনো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
গত ৮ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের উপস্থিতিতে দেশটির প্রথম নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি হাইপারসনিক অস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফল হয়। অস্ত্রটি শব্দের গতির অন্তত পাঁচ গুণ গতিতে উড়ে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে।
এর আগে ৩ অক্টোবর উত্তর কোরিয়াও একটি হাইপারসনিক মধ্যপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছিল। ফলে দুই কোরিয়ার পাল্টাপাল্টি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ঘিরে উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তর উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ উৎক্ষেপণের নিন্দা জানিয়ে তা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। সিউলের দাবি, এ ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন।
সূত্র: রয়টার্স