আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যহ্রাস এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় দর দুর্বল হয়ে পড়ার প্রভাবে এক ধাক্কায় স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) চলতি মাসের নীতি নির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বাড়াবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের পর্যালোচনার মধ্যে মূল্যবান এ ধাতুটির দাম ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে। খবর রয়টার্সের।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) লেনদেনের একপর্যায়ে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৯ দশমিক ৯৯ ডলারে পৌঁছায়। এর ফলে সপ্তাহজুড়েই ইতিবাচক বৃদ্ধির পথে রয়েছে ধাতুটি। অন্যদিকে ডিসেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার দরও ১ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১৫ দশমিক ৩০ ডলারে বেচাকেনা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা সাময়িকভাবে কমে আসায় তেলের বাজারে পতন দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে কোনো আক্রমণ চালাবে না ওয়াশিংটন এবং একই সঙ্গে সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া চলছে। ফলে জ্বালানি তেলের দাম কমায় যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার আশা তৈরি হয়েছে। এতে করে ফেডের তাৎক্ষণিক নীতিসুদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় ডলারের সূচক নিম্নমুখী হয়েছে এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হারও শীর্ষ পর্যায় থেকে নেমেছে, যা স্বর্ণের দাম পুনরুদ্ধারে অনুকূল ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
সাধারণত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের মান কমলে অন্য মুদ্রাধারীদের কাছে ডলারে নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সস্তা হয়ে দাঁড়ায়, ফলে ধাতুটির বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তবে জেফরিজের অধীনস্থ ট্রেডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবুরাস সতর্ক করে জানান, সামষ্টিক অর্থনীতি ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন এখনো রয়ে গেছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্যমতে, অক্টোবরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা মাত্র ১৯ শতাংশ হলেও ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখনো ৮৪ শতাংশ রয়েছে। সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আগ্রহ কিছুটা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বড় উল্লম্ফন ঘটেছে। শুক্রবার বিশ্ববাজারে স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৯০ দশমিক ৪৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৬২ দশমিক ১৮ ডলারে লেনদেন হয়েছে।