ঢাকা    শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla Lead

এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার



এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের বেনামি মালিকানাধীন আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফার্স্টকম’কে নিয়মের বাইরে গিয়ে বিশেষ সুবিধা দিয়ে পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) বিরুদ্ধে। সর্বশেষ গত ৩০ সেপ্টেম্বর সংস্থাটির জারি করা একটি নতুন নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে টেলিকম খাতে এই বিতর্ক নতুন করে জোরালো হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বকেয়া পরিশোধ ও ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়া প্রচলিত বাজার শৃঙ্খলা পাশ কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যক্রম পরিচালনার একতরফা সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদুল বারী এ অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে জানিয়েছেন, বিটিআরসি নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের সুবিধার জন্য কাজ করে না এবং প্রচলিত আইন মেনেই ৩০ সেপ্টেম্বরের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিটিআরসির মহাপরিচালক শফিউল আজম পারভেজ স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক কল লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত আইজিডব্লিউ অপারেটররা কমন ইন্টারন্যাশনাল পয়েন্টে (সিআইপি) পৃথকভাবে ইন্টার অপারেটর এক্সচেঞ্জ (আইওএক্স) সুইচ বসিয়ে কার্যক্রম চালাতে পারবে। এতদিন সব অপারেটর সম্মিলিতভাবে একই সিআইপি নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকায় রাজস্ব ভাগাভাগি ও নজরদারিতে স্বচ্ছতা বজায় ছিল।

অভিযোগ উঠেছে, ফার্স্টকম কোনো ধরনের আগাম ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান এবং অন্য অপারেটরদের প্রায় আড়াই কোটি টাকার বকেয়া নিষ্পত্তি না করেই সম্মিলিত প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে চেয়েছিল। অন্য অপারেটরদের তীব্র আপত্তির মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই মধ্যরাতে বিটিআরসি এই পৃথক সুইচ স্থাপনের বিতর্কিত নির্দেশনা জারি করে।

নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর বকেয়া ও অনিয়মের দায়ে ফার্স্টকমের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মে মাসে ‘বকেয়া না মেটালে নতুন টপোলজিতে সুযোগ নেই’ বলে শর্ত দেওয়া হলেও একই বছরের ডিসেম্বরে রহস্যজনকভাবে ফার্স্টকমের ১০০ শতাংশ অপারেশনাল ক্যাপ প্রত্যাহার করা হয়। এমনকি ২০২৬ সালের ১৫ মার্চের বিটিআরসির মিটিং মিনিটসে অন্য অপারেটরদের সঙ্গে সমঝোতার ভুয়া তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ ওঠে এবং ১৬ মার্চ প্রতিষ্ঠানটিকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ফার্স্টকমের ৭৭ শতাংশের বেশি শেয়ার রয়েছে ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত এস আলম সংশ্লিষ্টদের বেনামে, যার বড় অংশীদার ‘জেনেসিস টেক্সটাইল’ ও ‘লায়ন সিকিউরিটিজ’। বাকি শেয়ার সাবেক মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ও তাঁর পরিবারের। দুদকের আবেদনে আদালতের নির্দেশে এস আলমের যে ৪২টি কোম্পানির সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে এ দুটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। আদালতের আদেশের পরও এমন একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে পুনঃসুবিধা পায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সূত্র: যুগান্তর

ট্যাগ : বিটিআরসি নির্দেশনা ফার্স্টকম কেলেঙ্কারি

Bangla Lead

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের বেনামি মালিকানাধীন আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফার্স্টকম’কে নিয়মের বাইরে গিয়ে বিশেষ সুবিধা দিয়ে পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) বিরুদ্ধে। সর্বশেষ গত ৩০ সেপ্টেম্বর সংস্থাটির জারি করা একটি নতুন নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে টেলিকম খাতে এই বিতর্ক নতুন করে জোরালো হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বকেয়া পরিশোধ ও ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়া প্রচলিত বাজার শৃঙ্খলা পাশ কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যক্রম পরিচালনার একতরফা সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদুল বারী এ অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে জানিয়েছেন, বিটিআরসি নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের সুবিধার জন্য কাজ করে না এবং প্রচলিত আইন মেনেই ৩০ সেপ্টেম্বরের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিটিআরসির মহাপরিচালক শফিউল আজম পারভেজ স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক কল লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত আইজিডব্লিউ অপারেটররা কমন ইন্টারন্যাশনাল পয়েন্টে (সিআইপি) পৃথকভাবে ইন্টার অপারেটর এক্সচেঞ্জ (আইওএক্স) সুইচ বসিয়ে কার্যক্রম চালাতে পারবে। এতদিন সব অপারেটর সম্মিলিতভাবে একই সিআইপি নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকায় রাজস্ব ভাগাভাগি ও নজরদারিতে স্বচ্ছতা বজায় ছিল।

অভিযোগ উঠেছে, ফার্স্টকম কোনো ধরনের আগাম ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান এবং অন্য অপারেটরদের প্রায় আড়াই কোটি টাকার বকেয়া নিষ্পত্তি না করেই সম্মিলিত প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে চেয়েছিল। অন্য অপারেটরদের তীব্র আপত্তির মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই মধ্যরাতে বিটিআরসি এই পৃথক সুইচ স্থাপনের বিতর্কিত নির্দেশনা জারি করে।

নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর বকেয়া ও অনিয়মের দায়ে ফার্স্টকমের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মে মাসে ‘বকেয়া না মেটালে নতুন টপোলজিতে সুযোগ নেই’ বলে শর্ত দেওয়া হলেও একই বছরের ডিসেম্বরে রহস্যজনকভাবে ফার্স্টকমের ১০০ শতাংশ অপারেশনাল ক্যাপ প্রত্যাহার করা হয়। এমনকি ২০২৬ সালের ১৫ মার্চের বিটিআরসির মিটিং মিনিটসে অন্য অপারেটরদের সঙ্গে সমঝোতার ভুয়া তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ ওঠে এবং ১৬ মার্চ প্রতিষ্ঠানটিকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ফার্স্টকমের ৭৭ শতাংশের বেশি শেয়ার রয়েছে ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত এস আলম সংশ্লিষ্টদের বেনামে, যার বড় অংশীদার ‘জেনেসিস টেক্সটাইল’ ও ‘লায়ন সিকিউরিটিজ’। বাকি শেয়ার সাবেক মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ও তাঁর পরিবারের। দুদকের আবেদনে আদালতের নির্দেশে এস আলমের যে ৪২টি কোম্পানির সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে এ দুটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। আদালতের আদেশের পরও এমন একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে পুনঃসুবিধা পায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সূত্র: যুগান্তর


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড