ঢাকা    রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla Lead

ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী



ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সাংবাদিকদের স্বার্থে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। প্রয়োজনে বিষয়টি মন্ত্রিসভার বৈঠকেও উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের কাছে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দিতে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে দক্ষ সাংবাদিকরা পেশাটির প্রতি আগ্রহ হারাতে পারেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নতুন ও ভালো সাংবাদিক তৈরি হওয়ার পথও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের অচলাবস্থা রয়েছে। নবম ওয়েজবোর্ডও যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দশম ওয়েজবোর্ড ঘোষণার দাবি রয়েছে। ফলে দশম ওয়েজবোর্ডের বিষয়টির পাশাপাশি নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় শ্রম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে এবং সামনে এ উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মালিকদেরও আন্তরিক হতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলো তা বাস্তবায়ন না করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।

সাংবাদিকের সংজ্ঞা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পেশাদার সাংবাদিকতা করে আসা ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া ভুয়া সাংবাদিকদের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকরা হুমকির মুখে পড়ছেন। এর পাশাপাশি এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনগণ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্যও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কারা সাংবাদিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন, সে বিষয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে একটি প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ কিংবা সাংবাদিকদের লেখালেখি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে এই আইন করা হচ্ছে না। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে হয়রানি, মিথ্যা তথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে মানুষকে ক্ষতির মুখে ফেলার মতো ঘটনা মোকাবিলায় সাইবার নিরাপত্তা প্রয়োজন।

কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিক ভুলবশত এমন কোনো সংবাদ প্রকাশ করলে, যার কারণে আইনের ব্যত্যয় ঘটে, সেক্ষেত্রে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার যে প্রস্তাব সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এসেছে, সেটিও সরকার বিবেচনা করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আইনের প্রয়োজনীয় শব্দচয়ন এবং বিধান কীভাবে যুক্ত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। গণমাধ্যম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সরকার হস্তক্ষেপ করতে চায় না। সাংবাদিকরা যাতে স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকার কাজ করছে।

সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবি ও প্রস্তাবগুলো লিখিতভাবে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, লিখিত প্রস্তাব পাওয়া গেলে সেগুলো পর্যালোচনা করে বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ সরকারের জন্য সহজ হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময় ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় ডিইউজের সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকরা দিন-রাত পরিশ্রম করে দেশের বিভিন্ন খবর জনগণের সামনে তুলে ধরেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় তাদের জীবনের ঝুঁকিও নিতে হয়। অথচ অনেক সাংবাদিক ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থায় ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম বলেন, কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া উচিত নয়। ফেসবুক পেজ খুলে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত ও সার্বিক কল্যাণে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগও দাবি করেন তিনি।

ডিইউজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. দিদারুল আলম দিদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়িত না হওয়ায় সাংবাদিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড ঘোষণার দাবি জানান। পাশাপাশি যেসব সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করে না, তাদের সরকারি বিজ্ঞাপন ও ক্রোড়পত্র না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান প্রত্যাশা করেন তিনি।

সভায় ডিইউজের সহসভাপতি রাশেদুল হক, দপ্তর সম্পাদক ইকবাল মজুমদার তৌহিদ, কল্যাণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন রাজ্জাক, প্রচার সম্পাদক আবুল কালাম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রফিক লিটন, নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ গাজী আনোয়ার, তালুকদার এ এইচ এম নুরুল মোমেনসহ সংগঠনের অন্য নেতারা বক্তব্য দেন।

এ সময় ডিইউজের সিনিয়র সহসভাপতি রফিক মোহাম্মদ, নির্বাহী সদস্য এম. মোশররফ হোসাইন, আবদুল্লাহ মজুমদার, ফখরুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও কল্যাণ, ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন, সাংবাদিকের সংজ্ঞা নির্ধারণ, সাইবার নিরাপত্তা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ট্যাগ : ইয়াসের খান চৌধুরী ওয়েজবোর্ড

Bangla Lead

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সাংবাদিকদের স্বার্থে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। প্রয়োজনে বিষয়টি মন্ত্রিসভার বৈঠকেও উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের কাছে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দিতে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে দক্ষ সাংবাদিকরা পেশাটির প্রতি আগ্রহ হারাতে পারেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নতুন ও ভালো সাংবাদিক তৈরি হওয়ার পথও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের অচলাবস্থা রয়েছে। নবম ওয়েজবোর্ডও যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দশম ওয়েজবোর্ড ঘোষণার দাবি রয়েছে। ফলে দশম ওয়েজবোর্ডের বিষয়টির পাশাপাশি নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় শ্রম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে এবং সামনে এ উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মালিকদেরও আন্তরিক হতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলো তা বাস্তবায়ন না করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।

সাংবাদিকের সংজ্ঞা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পেশাদার সাংবাদিকতা করে আসা ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া ভুয়া সাংবাদিকদের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকরা হুমকির মুখে পড়ছেন। এর পাশাপাশি এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনগণ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্যও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কারা সাংবাদিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন, সে বিষয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে একটি প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ কিংবা সাংবাদিকদের লেখালেখি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে এই আইন করা হচ্ছে না। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে হয়রানি, মিথ্যা তথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে মানুষকে ক্ষতির মুখে ফেলার মতো ঘটনা মোকাবিলায় সাইবার নিরাপত্তা প্রয়োজন।

কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিক ভুলবশত এমন কোনো সংবাদ প্রকাশ করলে, যার কারণে আইনের ব্যত্যয় ঘটে, সেক্ষেত্রে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার যে প্রস্তাব সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এসেছে, সেটিও সরকার বিবেচনা করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আইনের প্রয়োজনীয় শব্দচয়ন এবং বিধান কীভাবে যুক্ত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। গণমাধ্যম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সরকার হস্তক্ষেপ করতে চায় না। সাংবাদিকরা যাতে স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকার কাজ করছে।

সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবি ও প্রস্তাবগুলো লিখিতভাবে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, লিখিত প্রস্তাব পাওয়া গেলে সেগুলো পর্যালোচনা করে বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ সরকারের জন্য সহজ হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময় ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় ডিইউজের সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকরা দিন-রাত পরিশ্রম করে দেশের বিভিন্ন খবর জনগণের সামনে তুলে ধরেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় তাদের জীবনের ঝুঁকিও নিতে হয়। অথচ অনেক সাংবাদিক ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থায় ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম বলেন, কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া উচিত নয়। ফেসবুক পেজ খুলে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত ও সার্বিক কল্যাণে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগও দাবি করেন তিনি।

ডিইউজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. দিদারুল আলম দিদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়িত না হওয়ায় সাংবাদিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড ঘোষণার দাবি জানান। পাশাপাশি যেসব সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করে না, তাদের সরকারি বিজ্ঞাপন ও ক্রোড়পত্র না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান প্রত্যাশা করেন তিনি।

সভায় ডিইউজের সহসভাপতি রাশেদুল হক, দপ্তর সম্পাদক ইকবাল মজুমদার তৌহিদ, কল্যাণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন রাজ্জাক, প্রচার সম্পাদক আবুল কালাম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রফিক লিটন, নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ গাজী আনোয়ার, তালুকদার এ এইচ এম নুরুল মোমেনসহ সংগঠনের অন্য নেতারা বক্তব্য দেন।

এ সময় ডিইউজের সিনিয়র সহসভাপতি রফিক মোহাম্মদ, নির্বাহী সদস্য এম. মোশররফ হোসাইন, আবদুল্লাহ মজুমদার, ফখরুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও কল্যাণ, ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন, সাংবাদিকের সংজ্ঞা নির্ধারণ, সাইবার নিরাপত্তা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড