ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩
Bangla Lead

নেটওয়ার্ক পেতে গাছে উঠে হাজিরা দিলেন শিক্ষক, ছবি ভাইরাল


প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

নেটওয়ার্ক পেতে গাছে উঠে হাজিরা দিলেন শিক্ষক, ছবি ভাইরাল
গাছের ডালে পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটির সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি উপজেলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক সংকটের কারণে পাহাড়ের চূড়ায় গাছে উঠে অনলাইনে দাপ্তরিক হাজিরা দিয়েছেন এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

সোমবার (১৫ জুন) বিকেল থেকে গাছে উঠে হাজিরা দেওয়ার ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই শিক্ষক বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ভারত সীমান্তসংলগ্ন পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের বলে জানা গেছে।


সরকারি নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের সব প্রাথমিক শিক্ষককে প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতার ছবি তুলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠাতে হবে। সোমবার থেকে এ নিয়ম দেশব্যাপী কার্যকর হয়।

প্রথম দিনেই নেটওয়ার্ক সংকটে বিপাকে পড়েন দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষকরা। পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, তার বিদ্যালয়টি পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় তিন থেকে চারশ ফুট নিচু এলাকায় অবস্থিত। সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, ‘চাকরি বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে গাছে উঠতে হয়েছে। নইলে পরিবারের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে যেত।’

আবু তাহের জানান, সোমবার সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রথমে ভবনের ছাদ থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে হাজিরা খাতার ছবি পাঠানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু নেটওয়ার্ক না থাকায় তিনি ব্যর্থ হন। পরে আশপাশের পাহাড়ের চূড়ায় উঠেও সংযোগ পাননি। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে একটি আমগাছের মগডালে উঠে দুর্বল নেটওয়ার্ক পেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরার ছবি পাঠাতে সক্ষম হন।

রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৭০৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিন ৫৩৮টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোনোভাবে হাজিরার তথ্য পাঠাতে পেরেছেন। তবে ১৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় তাদের ডিজিটাল হাজিরা রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি।

বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৮টি বিদ্যালয়ের ৮৩ জন শিক্ষকের অনলাইন হাজিরা সংযোগের অভাবে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্চয়ন চাকমা।

জেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজির আহমদ তালুকদার বলেন, সমতল অঞ্চলের শিক্ষকদের জন্য অনলাইন হাজিরা সহজ হলেও পার্বত্য দুর্গম এলাকায় এটি অত্যন্ত কঠিন। রাঙামাটির অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় এখনো মোবাইল নেটওয়ার্কের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগও নেই। এ বাস্তবতা বিবেচনায় পার্বত্য এলাকার শিক্ষকদের জন্য নিয়মটি শিথিল করার আহ্বান জানান তিনি।

রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন বলেন, আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং যেখানে সম্ভব সাধারণ এসএমএসের মাধ্যমে শিক্ষকদের হাজিরার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যেসব দুর্গম এলাকা সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছে, সেগুলোর তালিকা তৈরি করে ঢাকা প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্র

ট্যাগ : রাঙামাটি, বাঘাইছড়ি, অনলাইন হাজিরা, শিক্ষক, মোবাইল নেটওয়ার্ক

Bangla Lead

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


নেটওয়ার্ক পেতে গাছে উঠে হাজিরা দিলেন শিক্ষক, ছবি ভাইরাল

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

রাঙামাটির সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি উপজেলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক সংকটের কারণে পাহাড়ের চূড়ায় গাছে উঠে অনলাইনে দাপ্তরিক হাজিরা দিয়েছেন এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

সোমবার (১৫ জুন) বিকেল থেকে গাছে উঠে হাজিরা দেওয়ার ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই শিক্ষক বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ভারত সীমান্তসংলগ্ন পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের বলে জানা গেছে।


সরকারি নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের সব প্রাথমিক শিক্ষককে প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতার ছবি তুলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠাতে হবে। সোমবার থেকে এ নিয়ম দেশব্যাপী কার্যকর হয়।

প্রথম দিনেই নেটওয়ার্ক সংকটে বিপাকে পড়েন দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষকরা। পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, তার বিদ্যালয়টি পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় তিন থেকে চারশ ফুট নিচু এলাকায় অবস্থিত। সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, ‘চাকরি বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে গাছে উঠতে হয়েছে। নইলে পরিবারের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে যেত।’

আবু তাহের জানান, সোমবার সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রথমে ভবনের ছাদ থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে হাজিরা খাতার ছবি পাঠানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু নেটওয়ার্ক না থাকায় তিনি ব্যর্থ হন। পরে আশপাশের পাহাড়ের চূড়ায় উঠেও সংযোগ পাননি। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে একটি আমগাছের মগডালে উঠে দুর্বল নেটওয়ার্ক পেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরার ছবি পাঠাতে সক্ষম হন।

রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৭০৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিন ৫৩৮টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোনোভাবে হাজিরার তথ্য পাঠাতে পেরেছেন। তবে ১৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় তাদের ডিজিটাল হাজিরা রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি।

বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৮টি বিদ্যালয়ের ৮৩ জন শিক্ষকের অনলাইন হাজিরা সংযোগের অভাবে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্চয়ন চাকমা।

জেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজির আহমদ তালুকদার বলেন, সমতল অঞ্চলের শিক্ষকদের জন্য অনলাইন হাজিরা সহজ হলেও পার্বত্য দুর্গম এলাকায় এটি অত্যন্ত কঠিন। রাঙামাটির অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় এখনো মোবাইল নেটওয়ার্কের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগও নেই। এ বাস্তবতা বিবেচনায় পার্বত্য এলাকার শিক্ষকদের জন্য নিয়মটি শিথিল করার আহ্বান জানান তিনি।

রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন বলেন, আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং যেখানে সম্ভব সাধারণ এসএমএসের মাধ্যমে শিক্ষকদের হাজিরার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যেসব দুর্গম এলাকা সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছে, সেগুলোর তালিকা তৈরি করে ঢাকা প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্র


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড