যুক্তরাষ্ট্র ‘মধ্যপ্রাচ্যের অভিভাবক’ বা নিরাপত্তা রক্ষাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এর বিনিময়ে অঞ্চলটির মোট আয়ের ২০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চুক্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তেহরানের নেতৃত্ব ওয়াশিংটনের সঙ্গে চূড়ান্ত পারমাণবিক সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, এর বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ‘অভিভাবক’ বা নিরাপত্তা রক্ষাকারীর দায়িত্ব নিতে পারে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থার বিনিময়ে অঞ্চলটির মোট আয়ের ২০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে তার করা সমঝোতা স্মারক শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য পথটিকে ‘স্থায়ীভাবে শুল্কমুক্ত’ করে দেবে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্র দেশ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যে অর্থের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে কাজ করার ধারণার সঙ্গে একমত হয়েছে কি না। জবাবে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। বরং ইঙ্গিত দেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা মাত্র শুরু হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘এটি তখনই ঘটবে, যদি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ হিসেবেই থেকে যায়।’
এ ছাড়া তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আলোচিত মোজতবা খামেনি এবং দেশটির বর্তমান প্রশাসনকে ‘বাস্তববাদী’ বলে আখ্যায়িত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এ মন্তব্য যুদ্ধের প্রথম দিনের অবস্থানের সঙ্গে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক। সে সময় তিনি ইরানের জনগণকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বোমা হামলা শেষ হওয়ার পর তারা যেন নিজেদের সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়।
সূত্র: এনডিটিভি