বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি শিল্পের দৃশ্যমানতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে দেশের শিল্পখাতের সক্ষমতা ও দৃশ্যমানতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট।ঢাকায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফের সঙ্গে ইপিবি কার্যালয়ে মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ওমর সালাহউদ্দিনের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। চলতি মাসের শুরুতে প্যারিসে অনুষ্ঠিত টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং মেলা পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশি প্রদর্শনকারীদের সঙ্গে ইপিবি ভাইস চেয়ারম্যানের মতবিনিময়ের ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট আয়োজিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও কার্যকর করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শিল্পখাতের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা, জাতীয় প্যাভিলিয়নের কার্যকর উপস্থাপন এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমানতা বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় করেন তারা।বর্তমানে মেসে ফ্রাঙ্কফুর্টের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ রয়েছে। প্যারিস ও যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত অ্যাপারেল সোর্সিং মেলা, ফ্রাঙ্কফুর্টের হেইমটেক্সটাইল ও অ্যাম্বিয়েন্তে প্রদর্শনীর পাশাপাশি আসন্ন ইউরোবাইক মেলায়ও বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।বৈঠকে আসন্ন আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর ক্যালেন্ডার পর্যালোচনা করে আগাম প্রস্তুতি এবং প্রারম্ভিক পর্যায়েই প্রদর্শনী স্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রদর্শনী হলে সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে সহজে পৌঁছাতে পারবে বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়। বড় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে জাতীয় প্যাভিলিয়নে দর্শনার্থী আকৃষ্ট করার কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়।মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওমর সালাহউদ্দিন বলেন, মেসে ফ্রাঙ্কফুর্টের প্রদর্শনীগুলো বাংলাদেশের জন্য শুধু ব্যবসায়িক সুযোগই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ব্র্যান্ডিং জোরদারেরও সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। জাতীয় প্যাভিলিয়নের কার্যকর উপস্থাপন, বাংলাদেশবিষয়ক সেমিনার আয়োজন এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে দেশের শিল্পখাতের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও জোরদার করা সম্ভব।তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাফল্য শুধু উৎপাদন সক্ষমতায় সীমাবদ্ধ নয়। পণ্যের গুণগত মান, কমপ্লায়েন্স এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার বিষয়গুলোও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।বাংলাদেশি প্রদর্শনকারীদের দক্ষতা ও আগাম প্রস্তুতি বাড়াতে ইপিবি এবং মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট বাংলাদেশ যৌথভাবে ঢাকায় প্রি-শো সেশন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। এসব সেশনে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রদর্শনী-পরবর্তী ফলোআপ এবং ব্যবসায়িক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেওয়া হবে।বৈঠক প্রসঙ্গে ওমর সালাহউদ্দিন বলেন, আগামী নভেম্বরে ঢাকায় ইপিবি আয়োজিত গ্লোবাল সোর্সিং শোতে মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট একটি তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি ২০২৬ সালের শেষভাগ ও ২০২৭ সালের শুরুতে ঢাকায় তাদের কার্যক্রম আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।উল্লেখ্য, মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য মেলা ও প্রদর্শনী আয়োজক প্রতিষ্ঠান। নিজস্ব প্রদর্শনী কেন্দ্রসহ প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর প্রায় ১৫০টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করে। দীর্ঘ ঐতিহ্যসম্পন্ন এ প্রতিষ্ঠান বিশ্বের ১৮০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।