ইরানে নতুন করে বড় ধরনের যৌথ সামরিক অভিযান চালানোর সুনির্দিষ্ট ও আগ্রাসী পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হোয়াইট হাউস থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবুজ সংকেত বা আনুষ্ঠানিক নির্দেশ আসামাত্রই ইরানের ওপর একযোগে তীব্র সামরিক আঘাত হানতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকদের উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই যৌথ সামরিক অভিযানটি হবে মূলত ‘স্বল্পমেয়াদি কিন্তু অত্যন্ত তীব্র ও বিধ্বংসী’ (short and intensive)।
ইতোমধ্যে এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলসীমা ও সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ওয়াশিংটন তাদের রণপ্রস্তুতি নজিরবিহীনভাবে জোরদার করেছে। অঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক অবস্থানে ১২টিরও বেশি ভারী যুদ্ধজাহাজ এবং বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধপরিস্থিতি মোকাবিলায় হাজার হাজার মার্কিন বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সেনাসদস্যকে সতর্কাবস্থায় নিয়োজিত রাখা হয়েছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন যৌথ অভিযানের মূল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও তেল অবকাঠামো, সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা এবং দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক ড্রোনের মজুত ভান্ডারগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে পেন্টাগন সূত্রের বরাতে আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ববর্তী পাল্টাপাল্টি সংঘাতের সময় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের যে কয়টি সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছিল, কৌশলগত কারণে সেগুলোর কয়েকটি আর নতুন করে পুনর্নির্মাণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।
সূত্র: আল জাজিরা