ঢাকা    শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
Bangla Lead

ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের



ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ইরানে নতুন করে বড় ধরনের যৌথ সামরিক অভিযান চালানোর সুনির্দিষ্ট ও আগ্রাসী পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম আল জাজিরা বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) এ চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হোয়াইট হাউস থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবুজ সংকেত বা আনুষ্ঠানিক নির্দেশ আসামাত্রই ইরানের ওপর একযোগে তীব্র সামরিক আঘাত হানতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকদের উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই যৌথ সামরিক অভিযানটি হবে মূলত ‘স্বল্পমেয়াদি কিন্তু অত্যন্ত তীব্র ও বিধ্বংসী’ (short and intensive)।

ইতোমধ্যে এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলসীমা ও সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ওয়াশিংটন তাদের রণপ্রস্তুতি নজিরবিহীনভাবে জোরদার করেছে। অঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক অবস্থানে ১২টিরও বেশি ভারী যুদ্ধজাহাজ এবং বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধপরিস্থিতি মোকাবিলায় হাজার হাজার মার্কিন বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সেনাসদস্যকে সতর্কাবস্থায় নিয়োজিত রাখা হয়েছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন যৌথ অভিযানের মূল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও তেল অবকাঠামো, সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা এবং দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক ড্রোনের মজুত ভান্ডারগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে পেন্টাগন সূত্রের বরাতে আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ববর্তী পাল্টাপাল্টি সংঘাতের সময় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের যে কয়টি সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছিল, কৌশলগত কারণে সেগুলোর কয়েকটি আর নতুন করে পুনর্নির্মাণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। এর পরিবর্তে সরাসরি আক্রমণাত্মক যুদ্ধের সক্ষমতা ও সমুদ্রভিত্তিক শক্তি বৃদ্ধিতেই বেশি জোর দিচ্ছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ডামাডোলের মাঝেই এই পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূরাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে এক নতুন চরম সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

ট্যাগ : ইরানে মার্কিন-ইসরাইল হামলা

Bangla Lead

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ইরানে নতুন করে বড় ধরনের যৌথ সামরিক অভিযান চালানোর সুনির্দিষ্ট ও আগ্রাসী পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম আল জাজিরা বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) এ চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হোয়াইট হাউস থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবুজ সংকেত বা আনুষ্ঠানিক নির্দেশ আসামাত্রই ইরানের ওপর একযোগে তীব্র সামরিক আঘাত হানতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকদের উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই যৌথ সামরিক অভিযানটি হবে মূলত ‘স্বল্পমেয়াদি কিন্তু অত্যন্ত তীব্র ও বিধ্বংসী’ (short and intensive)।

ইতোমধ্যে এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলসীমা ও সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ওয়াশিংটন তাদের রণপ্রস্তুতি নজিরবিহীনভাবে জোরদার করেছে। অঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক অবস্থানে ১২টিরও বেশি ভারী যুদ্ধজাহাজ এবং বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধপরিস্থিতি মোকাবিলায় হাজার হাজার মার্কিন বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সেনাসদস্যকে সতর্কাবস্থায় নিয়োজিত রাখা হয়েছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন যৌথ অভিযানের মূল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও তেল অবকাঠামো, সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা এবং দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক ড্রোনের মজুত ভান্ডারগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে পেন্টাগন সূত্রের বরাতে আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ববর্তী পাল্টাপাল্টি সংঘাতের সময় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের যে কয়টি সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছিল, কৌশলগত কারণে সেগুলোর কয়েকটি আর নতুন করে পুনর্নির্মাণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। এর পরিবর্তে সরাসরি আক্রমণাত্মক যুদ্ধের সক্ষমতা ও সমুদ্রভিত্তিক শক্তি বৃদ্ধিতেই বেশি জোর দিচ্ছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ডামাডোলের মাঝেই এই পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূরাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে এক নতুন চরম সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড