ঢাকা    শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
Bangla Lead

পোশাক শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়া, এ খাতে বিএনপির দরদ বেশি: প্রতিমন্ত্রী



পোশাক শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়া, এ খাতে বিএনপির দরদ বেশি: প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পের মূল ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তাই এ খাতের প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দরদ ও দায়িত্ববোধ সবচেয়ে বেশি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় অর্থনীতি, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অসামান্য অবদান রাখা এ শিল্পের সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নে বিএনপি সরকার সবসময় সর্বোচ্চ আন্তরিক।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজেএ) কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভার শুরুতে পোশাক খাতের সাম্প্রতিক আন্দোলন ও শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার পোশাকশ্রমিকদের বাস্তবসম্মত ও জীবনযাত্রার চাহিদাসংক্রান্ত দাবির প্রতি পূর্ণ সহানুভূতিশীল ও আন্তরিক। এ কারণেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক মজুরি বোর্ড ও পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে পুরোদমে কাজ শুরু করে দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করা যায়।

মতবিনিময় সভায় ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে নির্ভীক ফটোসাংবাদিকদের ঐতিহাসিক ও ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকার যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, যাঁরা দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের অবদানকে শুধু আর্থিক সহায়তার গণ্ডিতে বাঁধলে চলবে না; বরং তাঁদের ঐতিহাসিক ত্যাগকে যথাযথ মূল্যায়ন, সম্মান ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা দিতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

সভায় বিপিজেএ নেতাদের দীর্ঘদিনের স্থায়ী কার্যালয়ের সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী আশ্বাস দিয়ে বলেন, সংগঠনটির জন্য একটি স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করার দাবিটি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট জায়গা বা ভবনের মালিকানা সংক্রান্ত যে আইনি জটিলতা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, এ আইন নিয়ে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, গণমাধ্যমকর্মী এবং আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা ও মতামত গ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। আইনটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সবার মতামতের পূর্ণ প্রতিফলন না ঘটিয়ে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যেতে চায় না। সরকার এমন একটি আইনি কাঠামো তৈরি করতে চায় যা প্রকৃত অর্থেই প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

অনুষ্ঠানে বিপিজেএর সভাপতি এ কে এম মহসিন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফটোসাংবাদিকদের বিভিন্ন পেশাগত বাধা ও দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ১৫ বছরে নির্যাতন, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও পেশাগত ঝুঁকি উপেক্ষা করে ফটোসাংবাদিকরা রাজপথে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোর সংবাদচিত্র ধারণ করে তাঁরা দেশ-বিদেশে স্বৈরাচারবিরোধী জনমত গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি সংগঠনের সদস্যদের জন্য একটি স্থায়ী কার্যালয় নিশ্চিতের জোর দাবি জানান।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার বলেন, ক্যামেরা হাতে ফটোসাংবাদিকরা ইতিহাসের জীবন্ত দলিল সংরক্ষণ করেন। দেড় দশকের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হামলা-মামলা সহ্য করেও তাঁরা রাজপথে ছিলেন। মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নুরুদ্দিন আহমেদ, এবিএম রফিকুর রহমান, নাসিম সিকদার এবং দেলোয়ার হোসেন বাদলসহ বিপিজেএর নির্বাহী কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগ : প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী

Bangla Lead

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


পোশাক শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়া, এ খাতে বিএনপির দরদ বেশি: প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পের মূল ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তাই এ খাতের প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দরদ ও দায়িত্ববোধ সবচেয়ে বেশি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় অর্থনীতি, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অসামান্য অবদান রাখা এ শিল্পের সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নে বিএনপি সরকার সবসময় সর্বোচ্চ আন্তরিক।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজেএ) কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভার শুরুতে পোশাক খাতের সাম্প্রতিক আন্দোলন ও শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার পোশাকশ্রমিকদের বাস্তবসম্মত ও জীবনযাত্রার চাহিদাসংক্রান্ত দাবির প্রতি পূর্ণ সহানুভূতিশীল ও আন্তরিক। এ কারণেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক মজুরি বোর্ড ও পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে পুরোদমে কাজ শুরু করে দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করা যায়।

মতবিনিময় সভায় ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে নির্ভীক ফটোসাংবাদিকদের ঐতিহাসিক ও ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকার যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, যাঁরা দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের অবদানকে শুধু আর্থিক সহায়তার গণ্ডিতে বাঁধলে চলবে না; বরং তাঁদের ঐতিহাসিক ত্যাগকে যথাযথ মূল্যায়ন, সম্মান ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা দিতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

সভায় বিপিজেএ নেতাদের দীর্ঘদিনের স্থায়ী কার্যালয়ের সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী আশ্বাস দিয়ে বলেন, সংগঠনটির জন্য একটি স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করার দাবিটি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট জায়গা বা ভবনের মালিকানা সংক্রান্ত যে আইনি জটিলতা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, এ আইন নিয়ে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, গণমাধ্যমকর্মী এবং আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা ও মতামত গ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। আইনটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সবার মতামতের পূর্ণ প্রতিফলন না ঘটিয়ে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যেতে চায় না। সরকার এমন একটি আইনি কাঠামো তৈরি করতে চায় যা প্রকৃত অর্থেই প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

অনুষ্ঠানে বিপিজেএর সভাপতি এ কে এম মহসিন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফটোসাংবাদিকদের বিভিন্ন পেশাগত বাধা ও দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ১৫ বছরে নির্যাতন, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও পেশাগত ঝুঁকি উপেক্ষা করে ফটোসাংবাদিকরা রাজপথে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোর সংবাদচিত্র ধারণ করে তাঁরা দেশ-বিদেশে স্বৈরাচারবিরোধী জনমত গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি সংগঠনের সদস্যদের জন্য একটি স্থায়ী কার্যালয় নিশ্চিতের জোর দাবি জানান।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার বলেন, ক্যামেরা হাতে ফটোসাংবাদিকরা ইতিহাসের জীবন্ত দলিল সংরক্ষণ করেন। দেড় দশকের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হামলা-মামলা সহ্য করেও তাঁরা রাজপথে ছিলেন। মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নুরুদ্দিন আহমেদ, এবিএম রফিকুর রহমান, নাসিম সিকদার এবং দেলোয়ার হোসেন বাদলসহ বিপিজেএর নির্বাহী কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড