রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে নারী, পুরুষ ও আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত তিন শিশুসহ একটি সক্রিয় ছিনতাইকারী চক্রের মোট ১৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। এ সময় তাঁদের হেফাজত থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ধারালো দেশীয় অস্ত্র ও ছিনতাই হওয়া চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
মোহাম্মদপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) থানা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও নির্জন পয়েন্টে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে চক্রটির সদস্যদের হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা হলেন—শান্ত হোসেন শাহিন (২১), ফাহিমুল হাসান আলিফ (২২), আবির ব্যাপারী শান্ত (২৩), রাজিব (২৫), মো. আরাফাত রহমান (২০), মো. হাসনাইন হাসান (২৬), মো. নাঈম (২৫), নাঈম ওমর (২৩), মো. স্বপন (১৯) এবং মোছা. খুশী আক্তার (১৯)। এ ছাড়া অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার দায়ে আইনের সঙ্গে সংঘাতে থাকা তিন কিশোরকে আইনি প্রক্রিয়ায় হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে ৩টি সুইজ গিয়ার, ২টি ধারালো চাকু, ১০টি লোহার রড, ১টি করাতযুক্ত চাকু এবং পথচারীদের কাছ থেকে ছিনতাই করা ৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মো. হাসনাইন হাসান চিহ্নিত অপরাধী; তাঁর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও শেরেবাংলা নগর থানায় ছিনতাই ও দস্যুতার একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই সংঘবদ্ধ চক্রটি মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ পথচারী, গণপরিবহনের যাত্রী, রিকশার আরোহী এবং স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের লক্ষ্যবস্তু করত। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিত তারা। এছাড়া অসতর্কতার সুযোগে নারী পথচারীদের হাতব্যাগ থেকে মোবাইল ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়া হতো।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় অস্ত্র ও দস্যুতার অভিযোগে দুটি পৃথক নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাঁদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করার কার্যক্রম চলছে।