ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
Bangla Lead

জাপানে ফের যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক



জাপানে ফের যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

জাপানের রাজধানী টোকিওতে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২১ সালে গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী জেনারেলদের সঙ্গে দীর্ঘ কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর এটি ছিল গত এক মাসের মধ্যে উভয় পক্ষের দ্বিতীয় বৈঠক। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট মার্কিন ও আন্তর্জাতিক কর্মকর্তারা।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, টোকিওতে আয়োজিত এই গোপন সংলাপে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গোয়েন্দা ও গবেষণা বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল ভ্যান্স। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত এক ডজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অংশ নেন। তবে মিয়ানমার জান্তার পক্ষে কারা অংশ নিয়েছিলেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। বৈঠকটি আয়োজনে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করেছে বলে জানা গেছে। এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে নেপিদোতে মাইকেল ভ্যান্স ও জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের মধ্যে সরাসরি প্রাথমিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমার জান্তার সঙ্গে ওয়াশিংটনের এই আকস্মিক যোগাযোগের পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, মিয়ানমারে গড়ে ওঠা বহুজাতিক ‘স্ক্যাম সেন্টার’ বা সাইবার প্রতারণা নেটওয়ার্কগুলো ধ্বংস করা, যেখান থেকে রোমান্স প্রতারণাসহ নানা ছলে আমেরিকান নাগরিকদের কাছ থেকে শত শত কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব চক্রের অনেকেই জান্তা-সমর্থিত স্থানীয় মিলিশিয়াদের ছত্রচ্ছায়ায় পরিচালিত হয়। দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারে থাকা মূল্যবান বিরল মৃত্তিকা উপাদান বা খনিজের (Rare Earth Minerals) সুবিশাল মজুত, যা বৈদ্যুতিক গাড়ি ও আধুনিক উচ্চপ্রযুক্তির টারবাইন তৈরির অন্যতম প্রধান কাঁচামাল। বৈশ্বিক বাজারে এই খনিজের সরবরাহ প্রায় এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে চীন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট মন্তব্যে না জড়ালেও জানিয়েছে, তারা মার্কিন কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় মিয়ানমারের সব পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি সামরিক জান্তাকে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত এক বার্মিজ ব্যবসায়ীর মেয়ের ওপর থেকে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে ওয়াশিংটন।

তবে এই নতুন কূটনৈতিক পদক্ষেপের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। মিয়ানমারের বিরল খনিজসমৃদ্ধ এলাকাগুলোর বেশিরভাগই বর্তমানে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর দখলে। পাশাপাশি দেশটির প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার চীন এ অঞ্চলে মার্কিন কোনো প্রভাব সহজে মেনে নেবে না।

অস্ট্রেলিয়ার থিঙ্কট্যাঙ্ক লোউই ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ হান্টার মার্সটন মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মূলত একটি নিখাদ ‘লেনদেনভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি’ (Transactional Approach) থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্নির্ধারণ করছে। রোহিঙ্গা গণহত্যার মতো মারাত্মক অপরাধের দায়ে জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং এখনো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত স্বার্থ উদ্ধারে জান্তার দরজায় কড়া নাড়ছে ওয়াশিংটন।

সূত্র: রয়টার্স 

ট্যাগ : মিয়ানমার জান্তা সরকার যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমার বৈঠক

Bangla Lead

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


জাপানে ফের যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জাপানের রাজধানী টোকিওতে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২১ সালে গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী জেনারেলদের সঙ্গে দীর্ঘ কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর এটি ছিল গত এক মাসের মধ্যে উভয় পক্ষের দ্বিতীয় বৈঠক। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট মার্কিন ও আন্তর্জাতিক কর্মকর্তারা।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, টোকিওতে আয়োজিত এই গোপন সংলাপে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গোয়েন্দা ও গবেষণা বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল ভ্যান্স। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত এক ডজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অংশ নেন। তবে মিয়ানমার জান্তার পক্ষে কারা অংশ নিয়েছিলেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। বৈঠকটি আয়োজনে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করেছে বলে জানা গেছে। এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে নেপিদোতে মাইকেল ভ্যান্স ও জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের মধ্যে সরাসরি প্রাথমিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমার জান্তার সঙ্গে ওয়াশিংটনের এই আকস্মিক যোগাযোগের পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, মিয়ানমারে গড়ে ওঠা বহুজাতিক ‘স্ক্যাম সেন্টার’ বা সাইবার প্রতারণা নেটওয়ার্কগুলো ধ্বংস করা, যেখান থেকে রোমান্স প্রতারণাসহ নানা ছলে আমেরিকান নাগরিকদের কাছ থেকে শত শত কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব চক্রের অনেকেই জান্তা-সমর্থিত স্থানীয় মিলিশিয়াদের ছত্রচ্ছায়ায় পরিচালিত হয়। দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারে থাকা মূল্যবান বিরল মৃত্তিকা উপাদান বা খনিজের (Rare Earth Minerals) সুবিশাল মজুত, যা বৈদ্যুতিক গাড়ি ও আধুনিক উচ্চপ্রযুক্তির টারবাইন তৈরির অন্যতম প্রধান কাঁচামাল। বৈশ্বিক বাজারে এই খনিজের সরবরাহ প্রায় এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে চীন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট মন্তব্যে না জড়ালেও জানিয়েছে, তারা মার্কিন কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় মিয়ানমারের সব পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি সামরিক জান্তাকে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত এক বার্মিজ ব্যবসায়ীর মেয়ের ওপর থেকে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে ওয়াশিংটন।

তবে এই নতুন কূটনৈতিক পদক্ষেপের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। মিয়ানমারের বিরল খনিজসমৃদ্ধ এলাকাগুলোর বেশিরভাগই বর্তমানে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর দখলে। পাশাপাশি দেশটির প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার চীন এ অঞ্চলে মার্কিন কোনো প্রভাব সহজে মেনে নেবে না।

অস্ট্রেলিয়ার থিঙ্কট্যাঙ্ক লোউই ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ হান্টার মার্সটন মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মূলত একটি নিখাদ ‘লেনদেনভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি’ (Transactional Approach) থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্নির্ধারণ করছে। রোহিঙ্গা গণহত্যার মতো মারাত্মক অপরাধের দায়ে জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং এখনো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত স্বার্থ উদ্ধারে জান্তার দরজায় কড়া নাড়ছে ওয়াশিংটন।

সূত্র: রয়টার্স 


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড