আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমা বিসর্জনের সময় সম্ভাব্য যেকোনো নৌদুর্ঘটনা মোকাবিলায় বিশেষ ডুবুরি দল সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রেখেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। একই সঙ্গে দেশের উপকূলীয় এবং নদীতীরবর্তী অঞ্চলের ৬১৫টি মন্দির ও পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তায় বাহিনীটির প্রায় দেড় হাজার সদস্যকে মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দিরে আয়োজিত এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান।
ব্রিফিংয়ে কোস্টগার্ড মহাপরিচালক বলেন, দুর্গোৎসব চলাকালে যেকোনো ধরনের নৌদুর্ঘটনা এড়াতে তাঁদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় সার্বক্ষণিক টহল অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে উৎসবের শেষ দিনে প্রতিমা বিসর্জনের ঘাটগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা কিংবা ডুবে যাওয়ার মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ ডুবুরি দল সর্বক্ষণ প্রস্তুত থাকবে। এ ছাড়া যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, নিরাপত্তা শঙ্কা কিংবা জরুরি সহায়তায় সাধারণ মানুষকে কোস্টগার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ তাৎক্ষণিক যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল বিভাগ এবং ঢাকা অঞ্চলের নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালন করছেন কোস্টগার্ড সদস্যরা।
বাহিনীটির আঞ্চলিক জোনভিত্তিক তথ্য তুলে ধরে শীর্ষ এই কর্মকর্তা জানান, উপকূল ও নদী অঞ্চলের মধ্যে কোস্টগার্ডের পূর্ব জোনে ৬৩টি, পশ্চিম জোনে ১৪৪টি, দক্ষিণ জোনে ৩৭১টি এবং ঢাকা জোনে ৩৭টিসহ সর্বমোট ৬১৫টি মন্দির ও পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা তদারকি করা হচ্ছে। পূজা শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় পরিবেশে সম্পন্ন করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা এলাকায় যেকোনো ধরনের অপপ্রচার ও গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান এবং সংশ্লিষ্ট সব পূজা উদযাপন কমিটিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।