যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে বিক্ষোভ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার, ১২ অক্টোবর দোহা থেকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে লক্ষ্য করে একদল প্রবাসী বাংলাদেশি স্লোগান ও বিভিন্ন মন্তব্য করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হুইলচেয়ারে থাকা ড. ইউনূসের দিকে কয়েকজন এগিয়ে এসে উচ্চস্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। তাদের একজনকে ‘ইউ আর টেররিস্ট’ এবং ‘ইউ কিল্ড বাংলাদেশিজ’সহ বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তাকর্মীরা ড. ইউনূসকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটিকে তাকে হেনস্তার ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হলেও, প্রকাশিত ভিডিও ও প্রতিবেদন থেকে শারীরিক হামলার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কয়েকটি প্রতিবেদনে বিক্ষোভকারীদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের প্রবাসী নেতাকর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের প্রত্যেকের রাজনৈতিক পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়টি নিশ্চিত তথ্যের বদলে প্রতিবেদনভিত্তিক দাবি হিসেবে উপস্থাপন করা অধিক নির্ভুল।
জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে ঘিরে এ ধরনের বিক্ষোভ অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের সময়ও তার সফরসঙ্গী রাজনৈতিক নেতারা বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন। সে সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটে এবং পরে এ ঘটনায় একজনকে নিউইয়র্ক পুলিশ আটক করেছিল।
এবারের ঘটনায় ড. ইউনূসকে সরাসরি লক্ষ্য করে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে ভিডিওতে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়নি।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন নিউইয়র্কে বাংলাদেশি রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও উত্তেজনার নজির আগেও দেখা গেছে। ফলে জেএফকে বিমানবন্দরের ঘটনাটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক বিভাজনের নতুন প্রকাশ হিসেবে সামনে এসেছে।