ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla Lead

ইয়েমেনে এবার সর্বাত্মক অভিযানের প্রস্তুতি সৌদির



ইয়েমেনে এবার সর্বাত্মক অভিযানের প্রস্তুতি সৌদির
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। লোহিত সাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সুরক্ষিত রাখতে উপকূলীয় এলাকায় সীমিত সামরিক অভিযান অথবা ইয়েমেনের একাধিক ফ্রন্টে একযোগে হামলা—এমন দুটি পৃথক পরিকল্পনা সামনে রেখে এগোচ্ছে রিয়াদ। আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাতে শনিবার (৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই অভিযান শুরু হতে পারে। রিয়াদের সরাসরি বিমান সহায়তা ও তত্ত্বাবধানে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী মূলত স্থল অভিযান পরিচালনা করবে। মিত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহযোগিতা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া পাকিস্তান, তুরস্ক ও ফ্রান্সের মতো আঞ্চলিক ও পশ্চিমা দেশগুলো সৌদিকে প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সরঞ্জাম ও উপদেষ্টাসংক্রান্ত সহায়তা দিচ্ছে বলে কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়েছে। তবে এসব মিত্র দেশের সেনারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে না বলে জানা গেছে।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করে। পরে ২০২২ সালে সেখানে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে হুতি গোষ্ঠী সৌদি জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর পর থেকেই অঞ্চলটির পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

রিয়াদের নতুন সামরিক পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানো এবং ওই অঞ্চলকে তাদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা। লোহিত সাগরের প্রবেশপথে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালি ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাব আল-মান্দেবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সৌদি আরব বর্তমানে দুটি বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনা করছে বলে কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে। এর প্রথমটি হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও এর আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় সীমিত সামরিক অভিযান। দ্বিতীয় পরিকল্পনাটি হলো আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফসহ ইয়েমেনের বিভিন্ন ফ্রন্টে একযোগে বড় আকারের সমন্বিত হামলা চালানো।

অভিযানের মাত্রা ও পরিধির ওপর নির্ভর করে প্রায় এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনাকে মাঠে নামানো হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সৌদি আরবকে সরাসরি বিমান সহায়তা না দিলেও লক্ষ্যবস্তুসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করছে। অন্যদিকে পাকিস্তান প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার সেনাকে সৌদি সীমান্ত সুরক্ষায় মোতায়েন করেছে এবং প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ফ্রান্সও লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর সুরক্ষায় সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

লেবাননে হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়ে পড়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে ইরানপন্থি অক্ষের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে হুতিদের অবস্থান তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ইয়েমেনি বাহিনীকে সামনে রেখে সৌদি আরবের নতুন সামরিক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলটিতে আরও একটি বড় ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ট্যাগ : সৌদি আরব হুতি

Bangla Lead

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


ইয়েমেনে এবার সর্বাত্মক অভিযানের প্রস্তুতি সৌদির

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। লোহিত সাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সুরক্ষিত রাখতে উপকূলীয় এলাকায় সীমিত সামরিক অভিযান অথবা ইয়েমেনের একাধিক ফ্রন্টে একযোগে হামলা—এমন দুটি পৃথক পরিকল্পনা সামনে রেখে এগোচ্ছে রিয়াদ। আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাতে শনিবার (৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই অভিযান শুরু হতে পারে। রিয়াদের সরাসরি বিমান সহায়তা ও তত্ত্বাবধানে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী মূলত স্থল অভিযান পরিচালনা করবে। মিত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহযোগিতা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া পাকিস্তান, তুরস্ক ও ফ্রান্সের মতো আঞ্চলিক ও পশ্চিমা দেশগুলো সৌদিকে প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সরঞ্জাম ও উপদেষ্টাসংক্রান্ত সহায়তা দিচ্ছে বলে কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়েছে। তবে এসব মিত্র দেশের সেনারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে না বলে জানা গেছে।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করে। পরে ২০২২ সালে সেখানে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে হুতি গোষ্ঠী সৌদি জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর পর থেকেই অঞ্চলটির পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

রিয়াদের নতুন সামরিক পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানো এবং ওই অঞ্চলকে তাদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা। লোহিত সাগরের প্রবেশপথে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালি ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাব আল-মান্দেবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সৌদি আরব বর্তমানে দুটি বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনা করছে বলে কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে। এর প্রথমটি হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও এর আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় সীমিত সামরিক অভিযান। দ্বিতীয় পরিকল্পনাটি হলো আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফসহ ইয়েমেনের বিভিন্ন ফ্রন্টে একযোগে বড় আকারের সমন্বিত হামলা চালানো।

অভিযানের মাত্রা ও পরিধির ওপর নির্ভর করে প্রায় এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনাকে মাঠে নামানো হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সৌদি আরবকে সরাসরি বিমান সহায়তা না দিলেও লক্ষ্যবস্তুসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করছে। অন্যদিকে পাকিস্তান প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার সেনাকে সৌদি সীমান্ত সুরক্ষায় মোতায়েন করেছে এবং প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ফ্রান্সও লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর সুরক্ষায় সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

লেবাননে হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়ে পড়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে ইরানপন্থি অক্ষের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে হুতিদের অবস্থান তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ইয়েমেনি বাহিনীকে সামনে রেখে সৌদি আরবের নতুন সামরিক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলটিতে আরও একটি বড় ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড