শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ডের ‘দায়িত্ব’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার কাঁধে চাপিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার পর রুমিন ফারহানা মনে হয় সেই দায়িত্বই পালন করছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ করে এসব কথা বলেন নাদিয়া পাঠান পাপন।
নাদিয়া পাঠান পাপন বলেন, শেখ হাসিনা গত ১৭ বছর জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের সমালোচনা ও বক্তব্য দিয়েছেন। এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শাড়ি-ব্লাউজ নিয়েও তিনি বাজে মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ করেন পাপন।
তার ভাষ্য, শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার পর তার সেই কর্মকাণ্ডের ‘দায়িত্ব’ রুমিন ফারহানা পালন করছেন।
রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সমালোচনা করে সংরক্ষিত নারী আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, রুমিন ফারহানা যখন বক্তব্য দিতেন, তখন সেগুলো বিএনপির লোকেরা লিখে দিত। বিএনপির মাধ্যমেই তার পরিচয় তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাদিয়া পাঠান পাপন বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রীর কাজের সমালোচনা করা যেতে পারে। তবে ব্যক্তিগতভাবে অশালীন মন্তব্য করা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি দাবি করেন, রুমিন ফারহানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘অপুষ্টিতে ভুগছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন। এ প্রসঙ্গে পাপন প্রশ্ন করেন, রুমিন ফারহানা কি তারেক রহমানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক?
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রসঙ্গও টানেন নাদিয়া পাঠান পাপন। তিনি বলেন, যে কোনো নাগরিক দেশের বাইরে যেতে পারেন এবং আবার দেশে ফিরতেও পারেন। তবে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও সাধারণ নাগরিকের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
পাপন বলেন, ‘তিনি আসুক, তাকে ওয়েলকাম জানালাম। তখন দেখা যাবে আমরা কী করতে পারি।’
বাবা-দাদার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে রুমিন ফারহানার বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন নাদিয়া পাঠান পাপন। তিনি বলেন, নিজের যোগ্যতা থাকলে বাবার কথা বারবার বলতে হয় কেন?
এ সময় রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘১০টা রুমিন ফারহানা জোড়া দিলেও একটা নিলুফার চৌধুরী মনি হবে না।’
অনুষ্ঠানে বিজয়নগরের বেকিনগর গ্রামের বিভিন্ন সমস্যা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়ও তুলে ধরা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিভিন্ন বিষয়ে আশ্বাস দিলেও সেসব আশ্বাস বাস্তবায়ন হয়নি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বেকিনগর গ্রামের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন এবং স্থানীয় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি নুরুল হক নিয়াজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চান্দুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আফজাল হোসেন আলমগীর।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরমান উদ্দিন, বিজয়নগর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সদস্য সায়েদ খন্দকার, চান্দুরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী এমরান, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ও চান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।