তিব্বতে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বুধবারের এই ভূমিকম্পের কম্পন নেপালের বিভিন্ন এলাকাতেও অনুভূত হয়েছে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে।
ভারতের জাতীয় ভূকম্পনবিদ্যা কেন্দ্র ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫ দশমিক ০ বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে নেপালের জাতীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র এটিকে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। নেপালের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল মুস্তাং এলাকায়।
ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নতুন এই ভূমিকম্প এমন এক সময়ে আঘাত হানল, যখন নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী অঞ্চল ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও কাদাধসে নেপাল ও তিব্বতে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়।
রয়টার্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওই দুর্যোগে দুই দেশে অন্তত ১ হাজার ৩৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫ হাজার ৪০০ জনের বেশি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলেও বেশ কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভয়াবহ ওই দুর্যোগের পরও নেপালে উদ্ধার অভিযান চলছে। সম্প্রতি ধ্বংসস্তূপ ও টানেল থেকে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে নিখোঁজ অন্যদের উদ্ধারের আশাও করছেন উদ্ধারকারীরা।
হিমালয় অঞ্চলের দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও সাম্প্রতিক দুর্যোগের কারণে নতুন এই ভূমিকম্পের পরও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সূত্র: রয়টার্স