ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla Lead

কুকুর কামড়ালে কখন নিতে হবে র‍্যাবিসের টিকা?



কুকুর কামড়ালে কখন নিতে হবে র‍্যাবিসের টিকা?
ছবি:সংগৃহীত
ফলো করুন

বাংলাদেশে কুকুরের কামড়ের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কামড়ের ক্ষত থেকে সংক্রমণের পাশাপাশি জলাতঙ্ক, টিটেনাসসহ গুরুতর নানা জটিলতার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে জলাতঙ্ক আক্রান্ত হলে সময়মতো প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা না নেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।

জলাতঙ্ক বা র‍্যাবিস হলো র‍্যাবিস ভাইরাসের সংক্রমণে হওয়া একটি গুরুতর রোগ। সাধারণত আক্রান্ত প্রাণীর কামড়, আঁচড় কিংবা লালার মাধ্যমে মানুষের শরীরে ভাইরাসটি প্রবেশ করতে পারে। এরপর এটি স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে পৌঁছায়। রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর হয়ে যেতে পারে।

কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?

র‍্যাবিসের উপসর্গ প্রকাশ পেতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসও সময় লাগতে পারে। জ্বর, অস্বাভাবিক অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, উত্তেজনা, গিলতে সমস্যা, আচরণগত পরিবর্তন এবং পরবর্তী সময়ে পক্ষাঘাতসহ বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—লক্ষণ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা করা যাবে না। কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কত দ্রুত টিকা নিতে হবে?

কুকুর কামড়ানোর পর র‍্যাবিসের টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্টভাবে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা ধরে অপেক্ষা করা উচিত নয়। যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা শুরু করতে হবে।

২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও চিকিৎসা নিতে দেরি করা যাবে না। এমনকি কয়েক দিন পর চিকিৎসা নিতে গেলেও দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে, কারণ প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা প্রয়োজন কি না তা চিকিৎসক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্ধারণ করবেন।

কামড়ের পর প্রথমেই যা করবেন

ক্ষত ধুয়ে ফেলুন:

কামড় বা আঁচড়ের জায়গাটি দ্রুত সাবান ও প্রচুর প্রবাহমান পানি দিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হবে।

নিজে থেকে চিকিৎসা বন্ধ করবেন না:

কুকুরটি দেখতে সুস্থ মনে হলেও নিজের সিদ্ধান্তে টিকা বাদ দেওয়া বা চিকিৎসা বন্ধ করা ঠিক নয়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করতে হবে।

কোন কোন চিকিৎসা লাগতে পারে?

১. অ্যান্টি-র‍্যাবিস ভ্যাকসিন (ARV):

কামড়ের ধরন ও রোগীর টিকাদানের ইতিহাস অনুযায়ী চিকিৎসক র‍্যাবিসের টিকার প্রয়োজনীয় ডোজ ও সময়সূচি নির্ধারণ করেন।

২. টিটেনাস প্রতিরোধ:

ক্ষতের ধরন এবং আগে টিটেনাসের টিকা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিবেচনা করে চিকিৎসক টিটেনাসের টিকা বা বুস্টার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

৩. র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (RIG):

গভীর বা গুরুতর ধরনের কামড়ের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে আগে র‍্যাবিসের টিকা না নেওয়া থাকলে, চিকিৎসক র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন দেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন। এটি সাধারণত ক্ষতের আশপাশে প্রয়োগ করা হয়।

মনে রাখবেন

কুকুরের কামড়কে ছোটখাটো আঘাত ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। ক্ষত দ্রুত পরিষ্কার করা এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের কাছে যাওয়া—র‍্যাবিস প্রতিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম।

ট্যাগ : বাংলাদেশ কুকুর

Bangla Lead

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কুকুর কামড়ালে কখন নিতে হবে র‍্যাবিসের টিকা?

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে কুকুরের কামড়ের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কামড়ের ক্ষত থেকে সংক্রমণের পাশাপাশি জলাতঙ্ক, টিটেনাসসহ গুরুতর নানা জটিলতার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে জলাতঙ্ক আক্রান্ত হলে সময়মতো প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা না নেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।

জলাতঙ্ক বা র‍্যাবিস হলো র‍্যাবিস ভাইরাসের সংক্রমণে হওয়া একটি গুরুতর রোগ। সাধারণত আক্রান্ত প্রাণীর কামড়, আঁচড় কিংবা লালার মাধ্যমে মানুষের শরীরে ভাইরাসটি প্রবেশ করতে পারে। এরপর এটি স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে পৌঁছায়। রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর হয়ে যেতে পারে।

কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?

র‍্যাবিসের উপসর্গ প্রকাশ পেতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসও সময় লাগতে পারে। জ্বর, অস্বাভাবিক অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, উত্তেজনা, গিলতে সমস্যা, আচরণগত পরিবর্তন এবং পরবর্তী সময়ে পক্ষাঘাতসহ বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—লক্ষণ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা করা যাবে না। কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কত দ্রুত টিকা নিতে হবে?

কুকুর কামড়ানোর পর র‍্যাবিসের টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্টভাবে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা ধরে অপেক্ষা করা উচিত নয়। যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা শুরু করতে হবে।

২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও চিকিৎসা নিতে দেরি করা যাবে না। এমনকি কয়েক দিন পর চিকিৎসা নিতে গেলেও দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে, কারণ প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা প্রয়োজন কি না তা চিকিৎসক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্ধারণ করবেন।

কামড়ের পর প্রথমেই যা করবেন

ক্ষত ধুয়ে ফেলুন:

কামড় বা আঁচড়ের জায়গাটি দ্রুত সাবান ও প্রচুর প্রবাহমান পানি দিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হবে।

নিজে থেকে চিকিৎসা বন্ধ করবেন না:

কুকুরটি দেখতে সুস্থ মনে হলেও নিজের সিদ্ধান্তে টিকা বাদ দেওয়া বা চিকিৎসা বন্ধ করা ঠিক নয়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করতে হবে।

কোন কোন চিকিৎসা লাগতে পারে?

১. অ্যান্টি-র‍্যাবিস ভ্যাকসিন (ARV):

কামড়ের ধরন ও রোগীর টিকাদানের ইতিহাস অনুযায়ী চিকিৎসক র‍্যাবিসের টিকার প্রয়োজনীয় ডোজ ও সময়সূচি নির্ধারণ করেন।

২. টিটেনাস প্রতিরোধ:

ক্ষতের ধরন এবং আগে টিটেনাসের টিকা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিবেচনা করে চিকিৎসক টিটেনাসের টিকা বা বুস্টার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

৩. র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (RIG):

গভীর বা গুরুতর ধরনের কামড়ের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে আগে র‍্যাবিসের টিকা না নেওয়া থাকলে, চিকিৎসক র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন দেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন। এটি সাধারণত ক্ষতের আশপাশে প্রয়োগ করা হয়।

মনে রাখবেন

কুকুরের কামড়কে ছোটখাটো আঘাত ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। ক্ষত দ্রুত পরিষ্কার করা এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের কাছে যাওয়া—র‍্যাবিস প্রতিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম।


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড