ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla Lead

‘পুলিশ বলে, তুই বাচ্চা হারাইছিস তো আমি কী করব?’



‘পুলিশ বলে, তুই বাচ্চা হারাইছিস তো আমি কী করব?’
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

‘পুলিশ বলে, তুই বাচ্চা হারাইছিস তো আমি কী করব?’—কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ঝিনাইদহের খাজুরা গ্রামের কাপড় বিক্রেতা হোশেন আলী। দেড় মাস ধরে নিখোঁজ তার ১২ বছরের ছেলে মো. আলী। সন্তানকে খুঁজে পেতে থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েও তিন দিন ঘুরতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘জিরো মিসিং চিল্ড্রেন’ আয়োজিত ‘আমার সন্তান কোথায়?’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন হোশেন আলী। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ শিশুদের প্রায় ৪০টি পরিবার এতে অংশ নেয়।

সংবাদ সম্মেলনে স্বজনেরা নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধার, নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত ঘটনাগুলোর কার্যকর তদন্তের দাবি জানান।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১৭টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু।

সাভারের বলিয়ারপুর থেকে নিখোঁজ চার বছরের শিশু যাদব কর্মকারের মা বাসনা কর্মকার অভিযোগ করেন, সন্তানকে নিয়ে হুমকির ফোন পাওয়ার পর সন্দেহভাজনদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে কামরাঙ্গীরচর থেকে ১১৫ দিন ধরে নিখোঁজ তিন বছরের শিশু সামিয়ার পরিবার জানায়, টিকটকে ‘মিঠাই’ নামে শিশুটিকে দেখা যাওয়ার তথ্য পুলিশকে দেওয়া হয়েছিল। পরে মামলাটি ডিবি ও পিবিআই পর্যন্ত গেলেও এখনো শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের অভিযোগ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, অনলাইনে জিডি করার সুযোগ রয়েছে। কোনো জিডি গ্রহণ না করার অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত সবাই শিশু হিসেবে বিবেচিত। তাই প্রেমের সম্পর্ক, পারিবারিক অভিমানসহ বিভিন্ন কারণে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার ঘটনাও নিখোঁজের জিডিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। শিশু নিখোঁজের বিষয়টি পুলিশ যথেষ্ট গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলন শেষে নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধারের পাশাপাশি পুরোনো ও অমীমাংসিত ঘটনাগুলো পুনরায় তদন্ত এবং শিশু নিখোঁজ ও পাচার প্রতিরোধে কঠোর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

ট্যাগ : সাভার বলিয়ারপুর

Bangla Lead

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


‘পুলিশ বলে, তুই বাচ্চা হারাইছিস তো আমি কী করব?’

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

‘পুলিশ বলে, তুই বাচ্চা হারাইছিস তো আমি কী করব?’—কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ঝিনাইদহের খাজুরা গ্রামের কাপড় বিক্রেতা হোশেন আলী। দেড় মাস ধরে নিখোঁজ তার ১২ বছরের ছেলে মো. আলী। সন্তানকে খুঁজে পেতে থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েও তিন দিন ঘুরতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘জিরো মিসিং চিল্ড্রেন’ আয়োজিত ‘আমার সন্তান কোথায়?’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন হোশেন আলী। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ শিশুদের প্রায় ৪০টি পরিবার এতে অংশ নেয়।

সংবাদ সম্মেলনে স্বজনেরা নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধার, নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত ঘটনাগুলোর কার্যকর তদন্তের দাবি জানান।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১৭টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু।

সাভারের বলিয়ারপুর থেকে নিখোঁজ চার বছরের শিশু যাদব কর্মকারের মা বাসনা কর্মকার অভিযোগ করেন, সন্তানকে নিয়ে হুমকির ফোন পাওয়ার পর সন্দেহভাজনদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে কামরাঙ্গীরচর থেকে ১১৫ দিন ধরে নিখোঁজ তিন বছরের শিশু সামিয়ার পরিবার জানায়, টিকটকে ‘মিঠাই’ নামে শিশুটিকে দেখা যাওয়ার তথ্য পুলিশকে দেওয়া হয়েছিল। পরে মামলাটি ডিবি ও পিবিআই পর্যন্ত গেলেও এখনো শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের অভিযোগ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, অনলাইনে জিডি করার সুযোগ রয়েছে। কোনো জিডি গ্রহণ না করার অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত সবাই শিশু হিসেবে বিবেচিত। তাই প্রেমের সম্পর্ক, পারিবারিক অভিমানসহ বিভিন্ন কারণে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার ঘটনাও নিখোঁজের জিডিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। শিশু নিখোঁজের বিষয়টি পুলিশ যথেষ্ট গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলন শেষে নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধারের পাশাপাশি পুরোনো ও অমীমাংসিত ঘটনাগুলো পুনরায় তদন্ত এবং শিশু নিখোঁজ ও পাচার প্রতিরোধে কঠোর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড