কয়েক সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর ইরানের অভ্যন্তরে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা এটিকে চলমান সংঘাতের পরিধি বিস্তারের অংশ হিসেবে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ইরানের সাম্প্রতিক হামলা চেষ্টার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক মাইন স্থাপনের প্রস্তুতির সময় ইরানের লারাক দ্বীপে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়।
এর জবাবে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে জানায় ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওই ঘাঁটি লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্রই মাঝপথে ধ্বংস করা হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ইরান আবারও পাল্টা হামলার চেষ্টা করলে আরও কঠোর ও উচ্চমাত্রার জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশিত নৌ-অবরোধ কার্যক্রম বাস্তবায়নে মার্কিন নৌবাহিনী কাজ করছে।
এদিকে সংঘাত বন্ধ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা এই উত্তেজনার দ্রুত অবসানের সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপে নতুন করে আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
সূত্র: সেন্টকম