ঢাকা    মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla Lead

গাজা যুদ্ধের পরিবেশগত ক্ষতি পৌঁছাচ্ছে ইসরাইলেও



গাজা যুদ্ধের পরিবেশগত ক্ষতি পৌঁছাচ্ছে ইসরাইলেও
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

গাজায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত সংকট এখন সীমান্ত পেরিয়ে ইসরাইলেও প্রভাব ফেলছে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অপরিশোধিত পয়োবর্জ্য, ধ্বংসস্তূপ ও বিষাক্ত বর্জ্য ভূমধ্যসাগর, উপকূলীয় এলাকা এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ তৈরি করছে।

গাজার বিদ্যুৎ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত বর্জ্য সমুদ্র ও স্থলভাগে ছড়িয়ে পড়ছে। সমুদ্রস্রোতের কারণে এসব দূষণ ইসরাইলের উপকূলীয় এলাকাতেও পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

দক্ষিণ ইসরাইলের আশকেলন পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট গাজার দূষিত পানির কারণে কয়েক দফা সমস্যার মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে। দূষিত পানিতে থাকা রোগজীবাণু, রাসায়নিক ও ভারী ধাতু সামুদ্রিক পরিবেশ এবং মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

গাজার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দূষিত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লবণ, রাসায়নিক ও রোগজীবাণু দীর্ঘমেয়াদে পানির মান নষ্ট করতে পারে, যার প্রভাব কৃষি ও পানীয় জলের ওপর পড়তে পারে।

যুদ্ধের কারণে গাজায় জমে থাকা বিপুল ধ্বংসস্তূপেও রয়েছে নানা ধরনের ঝুঁকি। এতে ভারী ধাতু, অ্যাসবেস্টস, বিস্ফোরকের অবশিষ্টাংশ ও শিল্প রাসায়নিক থাকতে পারে, যা মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

ধ্বংসস্তূপ থেকে বিষাক্ত ধুলা বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, দীর্ঘমেয়াদি রোগ ও পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অবিস্ফোরিত অস্ত্র নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা ও ইসরাইলের পরিবেশগত বাস্তবতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। একটি অঞ্চলের পানি, বায়ু ও সমুদ্র দূষণ অন্য অঞ্চলেও প্রভাব ফেলতে পারে।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি)সহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যুদ্ধ-পরবর্তী বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজার পরিবেশগত সংকট শুধু মানবিক সমস্যা নয়, এটি একটি আন্তঃসীমান্ত পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি কমাতে পানি, বর্জ্য ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

সূত্র: আলজাজিরা

Bangla Lead

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গাজা যুদ্ধের পরিবেশগত ক্ষতি পৌঁছাচ্ছে ইসরাইলেও

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

গাজায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত সংকট এখন সীমান্ত পেরিয়ে ইসরাইলেও প্রভাব ফেলছে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অপরিশোধিত পয়োবর্জ্য, ধ্বংসস্তূপ ও বিষাক্ত বর্জ্য ভূমধ্যসাগর, উপকূলীয় এলাকা এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ তৈরি করছে।

গাজার বিদ্যুৎ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত বর্জ্য সমুদ্র ও স্থলভাগে ছড়িয়ে পড়ছে। সমুদ্রস্রোতের কারণে এসব দূষণ ইসরাইলের উপকূলীয় এলাকাতেও পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

দক্ষিণ ইসরাইলের আশকেলন পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট গাজার দূষিত পানির কারণে কয়েক দফা সমস্যার মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে। দূষিত পানিতে থাকা রোগজীবাণু, রাসায়নিক ও ভারী ধাতু সামুদ্রিক পরিবেশ এবং মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

গাজার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দূষিত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লবণ, রাসায়নিক ও রোগজীবাণু দীর্ঘমেয়াদে পানির মান নষ্ট করতে পারে, যার প্রভাব কৃষি ও পানীয় জলের ওপর পড়তে পারে।

যুদ্ধের কারণে গাজায় জমে থাকা বিপুল ধ্বংসস্তূপেও রয়েছে নানা ধরনের ঝুঁকি। এতে ভারী ধাতু, অ্যাসবেস্টস, বিস্ফোরকের অবশিষ্টাংশ ও শিল্প রাসায়নিক থাকতে পারে, যা মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

ধ্বংসস্তূপ থেকে বিষাক্ত ধুলা বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, দীর্ঘমেয়াদি রোগ ও পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অবিস্ফোরিত অস্ত্র নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা ও ইসরাইলের পরিবেশগত বাস্তবতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। একটি অঞ্চলের পানি, বায়ু ও সমুদ্র দূষণ অন্য অঞ্চলেও প্রভাব ফেলতে পারে।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি)সহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যুদ্ধ-পরবর্তী বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজার পরিবেশগত সংকট শুধু মানবিক সমস্যা নয়, এটি একটি আন্তঃসীমান্ত পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি কমাতে পানি, বর্জ্য ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

সূত্র: আলজাজিরা


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড