ব্যালন ডি’অরের তালিকায় মেক্সিকোর ফুটবলের ঐতিহাসিক দিন
জুলিয়ান কুইনোনেস, স্কারলেট কামবেরোস ও ক্লাব আমেরিকা ফেমেনিল—প্রথমবারের মতো মেক্সিকোর দুই খেলোয়াড় ও একটি ক্লাব জায়গা করে নিয়েছে ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায়।মেক্সিকান ফুটবলের ইতিহাসে যোগ হলো নতুন অধ্যায়। ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের পুরুষ ও নারী বিভাগের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন মেক্সিকোর জুলিয়ান কুইনোনেস ও স্কারলেট কামবেরোস। একই সঙ্গে ক্লাব অব দ্য ইয়ার পুরস্কারের তালিকায় প্রথমবারের মতো জায়গা পেয়েছে ক্লাব আমেরিকা ফেমেনিল। অর্থাৎ, একই আসরে মেক্সিকোর ফুটবলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন প্রতিনিধি জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের তালিকায়।[BANGLEAD-POST:276]এর আগে সর্বশেষ ২০০৭ সালে ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় কোনো মেক্সিকান খেলোয়াড়ের নাম দেখা গিয়েছিল। তখন ২২ বছর বয়সী গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া ৩০তম অবস্থানে ছিলেন। ক্লাব আমেরিকার হয়ে কোপা লিবের্তাদোরেস ও মেক্সিকো জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাঁকে সেই স্বীকৃতি এনে দিয়েছিল। রাফায়েল মার্কেস, হাভিয়ের ‘চিচারিতো’ হার্নান্দেস, আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো ও জিওভানি দোস সান্তোসের নাম বিভিন্ন প্রাথমিক তালিকায় এলেও ৩০ জনের চূড়ান্ত সংক্ষিপ্ত তালিকায় তাঁরা জায়গা পাননি।কুইনোনেসের বিশ্বকাপ-সৌজন্যে স্বীকৃতিইউরোপের কোনো ক্লাবে না খেলেও পুরুষদের ব্যালন ডি’অরের তালিকায় জুলিয়ান কুইনোনেসের জায়গা পাওয়া বেশ চমকপ্রদ। তবে ২০২৫-২৬ মৌসুমে আল কাদসিয়াহ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স এই স্বীকৃতির যথেষ্ট কারণ হয়ে উঠেছে।আল কাদসিয়াহর হয়ে গত মৌসুমে দুর্দান্ত ছিলেন ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। দলকে লিগ শিরোপা এনে দিতে না পারলেও ৩১ ম্যাচে ৩৩ গোল করে সৌদি প্রো লিগের গোল্ডেন বুট জেতেন তিনি। পেছনে ফেলেন ইভান টোনি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মতো তারকাদের।বিশ্বকাপেও নিজেকে ছাড়িয়ে যান কুইনোনেস। মার্চে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর মেক্সিকোর দলে জায়গা করে নেওয়া এই ফরোয়ার্ড টুর্নামেন্টে করেন চার গোল। এক বিশ্বকাপে মেক্সিকোর কোনো খেলোয়াড়ের যৌথ সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসান তিনি। নকআউট পর্বে করেন দুটি গোল, সঙ্গে ছিল একটি অ্যাসিস্টও। সৌদি আরবে গোলের বন্যা এবং বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই এবার ব্যালন ডি’অরের মনোনয়ন পেলেন তিনি।কামবেরোসের হাত ধরে নতুন ইতিহাসনারী ফুটবলে আরও বড় ইতিহাস গড়েছেন স্কারলেট কামবেরোস। মেক্সিকোর ইতিহাসে নারী ব্যালন ডি’অরের জন্য মনোনীত হওয়া প্রথম খেলোয়াড় এখন ২৫ বছর বয়সী এই আক্রমণভাগের তারকা। লিগা এমএক্স ফেমেনিলে গত মৌসুমে ক্লাব আমেরিকার সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন তিনি।গত এক বছরে ৪৭ ম্যাচে কামবেরোসের গোল ২৭টি, অ্যাসিস্ট ১৭টি। তবে তাঁর সেরা পারফরম্যান্স এসেছে কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপে। সেমিফাইনালে গথাম সিটির বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। ফাইনালে ওয়াশিংটন স্পিরিটের বিপক্ষে করেন হ্যাটট্রিক অ্যাসিস্ট। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দুই দলকে হারিয়ে আমেরিকাকে প্রথম মহাদেশীয় শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন কামবেরোস।ক্লাব আমেরিকা ফেমেনিলের অনন্য কীর্তি[BANGLEAD-POST:275]কামবেরোসের সঙ্গে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছে ক্লাব আমেরিকা ফেমেনিলও। পুরুষ কিংবা নারী—মেক্সিকোর কোনো লিগা এমএক্স ক্লাবের ইতিহাসে এবারই প্রথম ব্যালন ডি’অরের ক্লাব অব দ্য ইয়ার পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কোনো নারী দলের এই পুরস্কারের তালিকায় প্রথমবার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঘটনাও এটি।কামবেরোসকে সামনে রেখে চলতি বছরে তিনটি শিরোপা জিতেছে আমেরিকা ফেমেনিল। ক্লাউসুরা ২০২৬ জিতে লিগা এমএক্সের শীর্ষে ফেরার পর তারা হারিয়েছে তিগ্রেসকে, জিতেছে ক্যাম্পেওন দে ক্যাম্পেওনেস। তবে সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে ওয়াশিংটন স্পিরিটকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে প্রথম মেক্সিকান দল হিসেবে নারী চ্যাম্পিয়নস কাপ জেতায়।মেক্সিকোর ফুটবলে নারী দলের ক্রমবর্ধমান শক্তিরই প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে এই অর্জন। কুইনোনেস ও কামবেরোসের ব্যক্তিগত স্বীকৃতির পাশাপাশি আমেরিকা ফেমেনিলের মনোনয়ন দেশটির ফুটবলের জন্য তৈরি করেছে একেবারেই নতুন এক ইতিহাস।