ঢাকা    শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla Lead

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা

চলতি সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর—এই তিন মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে চার থেকে ছয়টি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। পাশাপাশি একটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত মৌসুমি পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।আগস্টে বৃষ্টিপাত কমেছে[BANGLEAD-POST:245]আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, গত আগস্টে সারাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। তবে অঞ্চলভেদে বৃষ্টির পরিমাণে পার্থক্য ছিল। চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হলেও সিলেট ও বরিশালে বৃষ্টিপাত ছিল প্রায় স্বাভাবিক। অন্য বিভাগগুলোতে বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে কম।আগস্টে বঙ্গোপসাগরে মোট চারটি লঘুচাপ তৈরি হয়। সক্রিয় মৌসুমি বায়ু, লঘুচাপ ও নিম্নচাপের প্রভাবে বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও হয়েছে। এ মাসে এক দিনে সর্বোচ্চ ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় হাতিয়ায়।এদিকে আগস্টের ১০ থেকে ১২ তারিখ, ২২ তারিখ এবং ২৬ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। ২৭ আগস্ট রাজশাহীতে মাসের সর্বোচ্চ ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আর ৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।মাসটিতে দেশের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন এবং গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে যথাক্রমে ০ দশমিক ৮, ০ দশমিক ৫ এবং ০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।তিন মাসে বৃষ্টির সম্ভাব্য চিত্রআবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন মাস দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকতে পারে।ঢাকায় সেপ্টেম্বরে ২৫০ থেকে ২৮০ মিলিমিটার, অক্টোবরে ১৪০ থেকে ১৮০ মিলিমিটার এবং নভেম্বরে ২০ থেকে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এ তিন মাসে যথাক্রমে ২৬৩, ১৬০ ও ২৬ মিলিমিটার।ময়মনসিংহে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত যথাক্রমে ৩১০-৩৩০, ১৬০-২১০ এবং ১০-২০ মিলিমিটার। চট্টগ্রামে হতে পারে ৩৩০-৩৬০, ২০০-২৪০ ও ৩০-৫০ মিলিমিটার।সিলেটে সেপ্টেম্বর মাসে ৩৬০-৩৮০ মিলিমিটার, অক্টোবরে ১৬০-২২০ মিলিমিটার এবং নভেম্বরে ২০-৪০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।রাজশাহীতে তিন মাসে সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত যথাক্রমে ২৬০-২৮০, ১২০-১৪০ ও ১০-২০ মিলিমিটার। রংপুরে হতে পারে ৩৭০-৩৯০, ১৩০-১৮০ ও ৫-১৫ মিলিমিটার।খুলনায় সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে ২৭০-২৯০, ১২০-১৭০ এবং ২৫-৩৫ মিলিমিটার। বরিশালে সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত যথাক্রমে ৩২০-৩৪০, ২১০-২৪০ এবং ৪০-৫০ মিলিমিটার।বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কামৌসুমি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর-নভেম্বর সময়ে বঙ্গোপসাগরে চার থেকে ছয়টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক বা দুটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।তিন থেকে পাঁচ দফা তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা[BANGLEAD-POST:242]আগামী তিন মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তিন থেকে পাঁচ দফা মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে তা মৃদু এবং ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়।এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।বজ্রঝড় হতে পারে ৬ থেকে ১০ দিনপূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, আগামী তিন মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছয় থেকে ১০ দিন বজ্রঝড় হতে পারে। একই সময়ে নদ-নদীর পানি প্রবাহ আগস্ট মাসের স্বাভাবিক অবস্থার কাছাকাছি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই মৌসুমি পূর্বাভাস মূলত আগামী তিন মাসের সামগ্রিক আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রবণতা তুলে ধরে। এর মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট দিন বা নির্দিষ্ট এলাকায় ঘূর্ণিঝড়, তাপপ্রবাহ কিংবা বজ্রঝড় হবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।পরবর্তী সময়ে দৈনিক, পাঁচ দিনের, সামুদ্রিক এবং ঘূর্ণিঝড়সংক্রান্ত নিয়মিত পূর্বাভাসের মাধ্যমে আবহাওয়ার বিস্তারিত পরিস্থিতি জানা যাবে।

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা