ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
Bangla Lead

রাজধানীতে আজও পুলিশ ও পোশাকশ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া



রাজধানীতে আজও পুলিশ ও পোশাকশ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানী ঢাকা ও সংলগ্ন গাজীপুরে টানা চতুর্থ দিনের মতো রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।

সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বর এলাকা এবং গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ ও মৌচাকে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে এবং মিরপুর থেকে মোট ২৮ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সকাল সোয়া ৯টার দিকে মিরপুর-১০ এলাকায় কয়েকশ পোশাকশ্রমিক মূল সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধের চেষ্টা চালান। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস (টিয়ারশেল) নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় মিরপুরের প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের অধিকাংশ দোকানপাট নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, সড়ক অবরোধের চেষ্টা নস্যাৎ করে বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। এদিকে নাশকতা ও সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে মিরপুর ডিবি পুলিশ ১১ জনকে এবং সহিংসতা পরবর্তী মিছিলের প্রস্তুতিকালে থানা পুলিশ আরও ১৭ জনকে আটক করেছে।

অন্যদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় সকাল ৮টা থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে তুমুল বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় বিক্ষোভকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে সড়কে অবস্থান নিলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে মহাসড়কে চলাচলরত এবং পার্কিংয়ে থাকা অর্ধশতাধিক যানবাহন ও স্থানীয় দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। স্থানীয় পুলিশ ও রাজনৈতিক কর্মীরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে শ্রমিকদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সূত্রপাত হয়।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিকভাবে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। ভাঙচুর ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক, পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর ও হরিণহাটি এলাকার সব পোশাক কারখানায় আজকের মতো ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে ছয় সদস্যের আনুষ্ঠানিক মজুরি বোর্ড গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করলেও আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা অবিলম্বে ৩০ হাজার টাকার গেজেট কার্যকরের দাবিতে রাজপথে অনড় রয়েছেন।

ট্যাগ : রাজধানী পোশাকশ্রমিকদের

Bangla Lead

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


রাজধানীতে আজও পুলিশ ও পোশাকশ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানী ঢাকা ও সংলগ্ন গাজীপুরে টানা চতুর্থ দিনের মতো রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।

সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বর এলাকা এবং গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ ও মৌচাকে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে এবং মিরপুর থেকে মোট ২৮ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সকাল সোয়া ৯টার দিকে মিরপুর-১০ এলাকায় কয়েকশ পোশাকশ্রমিক মূল সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধের চেষ্টা চালান। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস (টিয়ারশেল) নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় মিরপুরের প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের অধিকাংশ দোকানপাট নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, সড়ক অবরোধের চেষ্টা নস্যাৎ করে বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। এদিকে নাশকতা ও সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে মিরপুর ডিবি পুলিশ ১১ জনকে এবং সহিংসতা পরবর্তী মিছিলের প্রস্তুতিকালে থানা পুলিশ আরও ১৭ জনকে আটক করেছে।

অন্যদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় সকাল ৮টা থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে তুমুল বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় বিক্ষোভকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে সড়কে অবস্থান নিলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে মহাসড়কে চলাচলরত এবং পার্কিংয়ে থাকা অর্ধশতাধিক যানবাহন ও স্থানীয় দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। স্থানীয় পুলিশ ও রাজনৈতিক কর্মীরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে শ্রমিকদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সূত্রপাত হয়।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিকভাবে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। ভাঙচুর ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক, পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর ও হরিণহাটি এলাকার সব পোশাক কারখানায় আজকের মতো ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে ছয় সদস্যের আনুষ্ঠানিক মজুরি বোর্ড গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করলেও আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা অবিলম্বে ৩০ হাজার টাকার গেজেট কার্যকরের দাবিতে রাজপথে অনড় রয়েছেন।


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড