আন্তর্জাতিক বাজারে জলপথ দিয়ে তেল পরিবহণ পুনরায় শুরু হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব কিছুটা কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দরকষাকষির ক্ষেত্রে তেহরান এখনো তাদের মূল কৌশলগত সুবিধা পুরোপুরি হারায়নি বলে জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক নেগার মোর্তাজাভি।
‘দি ইরান পডকাস্ট’-এর সঞ্চালক ও জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক নেগার মোর্তাজাভি আল জাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের প্রবাহ বেড়ে যাওয়া ইঙ্গিত করে যে ইরানের দরকষাকষির শক্তি কিছুটা ক্ষয় হচ্ছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে তেহরান ‘হরমুজ কার্ড’ ব্যবহারের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।
নেগার মোর্তাজাভি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা এবং অন্যান্য নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার ফলে বিশ্ববাজারের জন্য তেল পরিবহণ ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখা এবং সামরিক পাহারায় জ্বালানি পরিবহণ করা এক বিষয় নয়।
তিনি বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখনো হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং পরিবহণের বিমা খরচও চড়া রয়ে গেছে।
মোর্তাজাভি আরও বলেন, ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাড়তি অর্থনৈতিক খরচ তৈরি করা, বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় রাখা এবং যেকোনো সময় সামুদ্রিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর সক্ষমতা রাখে। ফলে ইরানের এই কৌশলগত প্রভাব পুরোপুরি মুছে যায়নি; বরং এর ধরন কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে।
নেগার মোর্তাজাভির মতে, তেহরানের দেওয়া শর্ত না মেনেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জনসমক্ষে এমন যুক্তি তুলে ধরতে পারেন।
তবে অতিরিক্ত ও স্থায়ী সামরিক সহায়তা বাড়ানো ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কতটা ভূমিকা ধরে রাখতে পারবে, তা এখনো অনিশ্চিত বলে মনে করেন তিনি।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে মোর্তাজাভির এই বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহণ পুনরায় শুরু হওয়ায় ইরানের তাৎক্ষণিক প্রভাবের কিছুটা পরিবর্তন হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় সামুদ্রিক চলাচলকে কৌশলগত চাপ হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।