সৌদি আরব ও সিরিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত
এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রাষ্ট্রীয় সফর সম্পন্ন করেছেন সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। এ গুরুত্বপূর্ণ সফরে প্রেসিডেন্ট আল-শারা এবং সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সরাসরি উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে এক ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে।এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি এমন এক সংবেদনশীল ভূরাজনৈতিক মুহূর্তে সম্পন্ন হলো যখন সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি প্রকাশ করেছেন যে, তাঁর সরকার বর্তমানে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার যৌথ বহুপাক্ষিক প্রতিরক্ষা জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করছে। বাহরাইনে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ 'মানামা সংলাপে' তিনি উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত 'মক্কা জোটে' সিরিয়ার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা পুরোদমে এগিয়ে চলছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সামুদ্রিক হুমকি ও সংঘাতের মুখে সৌদি আরব যখন নতুন আন্তর্জাতিক মিত্রদের সমর্থন সংগঠিত করছে, ঠিক তখনই দামেস্কের সঙ্গে রিয়াদের এ কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা তৈরি হলো। বৈঠকে উভয় শীর্ষ নেতা লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং বেসামরিক নৌ চলাচলে সব ধরনের হুমকি অবিলম্বে বন্ধের ওপর জোর দাবি জানান। সিরীয় গবেষক আহমেদ কাশেম আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে জানান, জাতীয় সার্বভৌমত্ব সুসংহত রাখা এবং ইসরায়েলি সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন প্রতিহত করতে আসাদ পরবর্তী সিরিয়ার জন্য একটি জোরালো আঞ্চলিক প্রতিরোধ বলয় গড়ে তোলা অপরিহার্য।নিরাপত্তা চুক্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে এ সফরে। সফরের আওতায় সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট সিরিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে সহজ শর্তে ৪০ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ হাজার ৯৯৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা) সমমূল্যের ছয়টি পৃথক ঋণ চুক্তি সই করেছে। এর বাইরে দুই দেশের মধ্যে শিল্পখাত, কৃষিব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় একাধিক পারস্পরিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদ সরকারের আকস্মিক পতনের মধ্য দিয়ে আহমেদ আল-শারা সিরিয়ার শাসনভার গ্রহণ করেন। ক্ষমতা পরিবর্তনের পর থেকেই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির সামগ্রিক অবকাঠামোগত পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে শীর্ষ আন্তর্জাতিক অংশীদার ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছে সৌদি আরব।সূত্র: আলজাজিরা