ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla Lead

হরমুজ প্রণালিতে হামলায় ২৪ ঘণ্টায় ডুবল দুটি কার্গো জাহাজ

গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির কাছে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে গেছে। পৃথক ঘটনায় জাহাজ দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেগুলো তলিয়ে যায়। এতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।প্রথম ঘটনাটি ঘটে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ জিএফএস প্রাইডকে ঘিরে। ১৩ অক্টোবর হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজটি অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে এতে আগুন ধরে যায় এবং শেষ পর্যন্ত জাহাজটি ডুবে যায়।জাহাজটিতে থাকা ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। কারও আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি জানিয়েছে, জাহাজটিতে কোনো সিঙ্গাপুরের নাগরিকও ছিলেন না। তবে হামলাকারী কারা?এখন পর্যন্ত জিএফএস প্রাইডে আঘাতকারী প্রজেক্টাইলের উৎস নিশ্চিত করা যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, জাহাজটি অনুমোদনহীন পথে চলার সময় সমুদ্রের মাইনে আঘাত করেছিল। তবে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। তাই ঘটনাটিকে সরাসরি কোনো পক্ষের হামলা হিসেবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এরপর ডুবে যায় কেপ দাও নামের একটি ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ার। জাহাজটি অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী। তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি: কেপ দাও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আঘাত পেয়ে ডুবেনি। ২৩ সেপ্টেম্বর একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং ওই ঘটনায় একজন নাবিক নিহত হন। পরে উদ্ধার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এটি ডুবে যায়। অর্থাৎ, ২৪ ঘণ্টায় দুটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার তথ্য সঠিক হলেও, দুটি জাহাজই একই সময়ে হামলার শিকার হয়ে ডুবেছে এমনটি বলা ঠিক নয়।ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা বেড়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরু থেকে এ অঞ্চলে একের পর এক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে তেলবাহী জাহাজের পাশাপাশি কনটেইনার ও অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজও রয়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এই পথে জাহাজ চলাচল বড় ধরনের বাধার মুখে পড়লে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে জাহাজের বীমা ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, এখন শুধু তেলবাহী জাহাজ নয়, কনটেইনার ও অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। ফলে হরমুজের সংকট কেবল জ্বালানি সরবরাহের বিষয় না থেকে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের নিরাপত্তার প্রশ্নেও পরিণত হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে হামলায় ২৪ ঘণ্টায় ডুবল দুটি কার্গো জাহাজ