ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla Lead

হরমুজে সেনা মোতায়েন করলে দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরানের কঠোর সতর্কবার্তা

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকায়ি সোমবার সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে দক্ষিণ কোরিয়ার যেকোনো সামরিক অংশগ্রহণ "গুরুতর পরিণতি" ডেকে আনবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরানের বিরুদ্ধে আমেরিকান আগ্রাসনকে সমর্থন করার শামিল হবে এমন পদক্ষেপ। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের সম্পর্ক ৬৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ইরান দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে তাদের এই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।[BANGLEAD-POST:269]তবে বাকায়ি স্পষ্ট জানান, ইরানি জনগণ যখন মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করছে, তখন এই অঞ্চলে সিউলের যেকোনো সামরিক উপস্থিতি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করবে। তিনি বলেন, নারী ও শিশুদের ওপর আমেরিকান ‘যুদ্ধাপরাধের’ জবাব দিচ্ছে ইরান। এমন সময়ে উপসাগরীয় অভিযানে অংশ নেওয়াকে "আগ্রাসন কারীর প্রতি প্রত্যক্ষ সমর্থন হিসেবে দেখা হবে এবং এর মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, "কোনো সার্বভৌম ও দায়িত্বশীল দেশের উচিত নয় মার্কিন চাপ ও হুমকির কাছে নতিস্বীকার করে ইরানি জাতির বিরুদ্ধে চালানো আগ্রাসন ও ভয়ানক অপরাধের অংশীদার হওয়া।"দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং মুক্ত নৌচলাচল নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোর সাথে পরামর্শ করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, "মধ্যপ্রাচ্যে যত দ্রুত সম্ভব শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং আমাদের দেশের জাহাজসহ সব ধরনের নৌযানের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে আমরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছি।"সিউলভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ‘ইয়োনহাপ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের চাপ সত্ত্বেও দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ইরানের সাথে কূটনৈতিক পথ খোলা রেখেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, "মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল নিরাপদ রাখতে সামরিক সহায়তার জন্য সিউলের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাপ সৃষ্টি করেছেন।" তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা শুক্রবার জানিয়েছেন, সৈন্য পাঠানোর বিষয়ে সিউল এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি এবং বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।[BANGLEAD-POST:268]ওই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটিয়ে মুক্ত নৌচলাচল নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় সামরিক অবদান রাখার বিষয়টি ভেবে দেখতে পারে দক্ষিণ কোরিয়া। স্থানীয় সম্প্রচার মাধ্যম এসবিএস জানিয়েছে, সিউল সম্ভাব্য সামরিক উপস্থিতির অংশ হিসেবে পি-৮ মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল (ইওডি) এবং একটি লজিস্টিক সাপোর্ট জাহাজ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।তবে এ ধরনের যেকোনো অভিযানের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল, মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং জাতীয় সংসদের সম্মতি প্রয়োজন হবে।উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি চুক্তিভিত্তিক মিত্র দেশ এবং ট্রাম্পের মতে, কোরীয় উপদ্বীপে বর্তমানে প্রায় ৩৯,০০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।সূত্র: আল জাজিরা

হরমুজে সেনা মোতায়েন করলে দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরানের কঠোর সতর্কবার্তা