ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলজুড়ে টানা শ্রমিক অসন্তোষ ও সড়ক অবরোধ অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সকাল থেকেই কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিল্পাঞ্চলে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে, যারা ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সরাসরি দায়িত্ব পালন করছেন।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরুল করিম ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিল্পাঞ্চলে শান্তি বজায় রাখা এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো পক্ষ যেন আন্দোলনের নামে সরকারি-বেসরকারি সম্পদ কিংবা সাধারণ মানুষের ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পূর্ণ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের দাবি, লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজারে বর্তমান স্বল্প বেতনে পরিবার নিয়ে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একটি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতেই এখন প্রায় আড়াই হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ফলে কেবল আনুষ্ঠানিক মজুরি বোর্ড গঠন করলেই সমাধান হবে না; কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির চূড়ান্ত গেজেট ঘোষণার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে শ্রমিকেরা দাবি করেন, তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছেন এবং কোনো ধরনের ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগে সাধারণ শ্রমিকরা জড়িত নন; সুযোগসন্ধানী বহিরাগতরা ভেতরে ঢুকে পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তুলছে।
এদিকে সকাল থেকে শুরু হওয়া এই তীব্র উত্তেজনার মুখে সকাল ৮টার পর থেকেই কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার কারখানাগুলোতে নিরাপত্তার স্বার্থে ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, আগের দিন রোববারও গাজীপুরের শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। আজও একাধিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, তবে মোট কতটি কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আগের দিন রোববারও এসব এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় একটি পুলিশ বক্সে আগুন এবং একাধিক যানবাহনে ভাঙচুর চালানো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দফায় দফায় টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। টানা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের কারণে পুরো শিল্পাঞ্চল ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।