সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা বলয়ে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে সিরিয়া। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বর্তমানে আলোচনা ও মূল্যায়ন চলছে বলে জানিয়েছেন সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) বাহরাইনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক ‘মানামা সংলাপ’ (Manama Dialogue) সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘মক্কা জোটে সিরিয়ার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি পর্যালোচনায় বর্তমানে অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা চলছে।’
উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে বহুল আলোচিত এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটির মূল ধারা অনুযায়ী, জোটভুক্ত যেকোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বা ভূখণ্ডের ওপর বহিরাগত আক্রমণ পরিচালিত হলে তা বাকি সদস্য দেশগুলোর ওপরও সরাসরি হামলা হিসেবে গণ্য হবে।
এদিকে প্রতিবেশী ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে সৌদি আরব নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত মিত্রতা জোরদারে সর্বাত্মক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসে হুথিদের বড় ধরনের একটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর রাজধানী রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রায় দুই সপ্তাহের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
শুক্রবারও সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দাবি করে, পবিত্র মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের আকাশসীমায় হুথিদের পাঠানো বেশ কয়েকটি আক্রমণাত্মক ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। তবে হুথি বিদ্রোহীরা তাৎক্ষণিকভাবে ওই হামলার সঙ্গে নিজেদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
হুথিদের বহুমুখী হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবের প্রতি আন্তর্জাতিক সামরিক সমর্থনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আকস্মিক এক সফরে রিয়াদ যান। সফরকালে তিনি জানান, সৌদি আরবের একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখতে ফ্রন্টলাইনে ফরাসি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া গত অক্টোবরে সৌদি আরবকে আকাশপথে সুরক্ষা দিতে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পাঠানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় যুক্তরাজ্য। এই প্রেক্ষাপটে তিন দেশের শক্তিশালী মক্কা জোটে সিরিয়ার অন্তর্ভুক্তির আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোতে নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই