কেক কেটে জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সুবিধাবঞ্চিত ও মেধাবী ছাত্রীদের মাঝে বাইসাইকেল উপহার এবং সাধারণ অসহায় মানুষের বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসার মতো ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন। রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) দিনব্যাপী বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় এ উপলক্ষে নানামুখী কল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
কর্মসূচির শুরুতে সকাল ১১টায় শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ৫৪৮ জন মেধাবী ছাত্রীর হাতে আনুষ্ঠানিক উপহার হিসেবে দৃষ্টিনন্দন গোলাপি রঙের বাইসাইকেল তুলে দেন। একই সঙ্গে ১ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থীর হাতে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ছবি সংবলিত শুভেচ্ছা মগ বিতরণ করা হয়। মূলত প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীশিক্ষার প্রসার ত্বরান্বিত করা, ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের শারীরিক ক্লান্তি ও ভোগান্তি লাঘব করা এবং ঝরে পড়া রোধ করে পড়াশোনায় আরও মনোযোগী করে তোলার উদ্দেশ্যেই এই উপহার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে দুপুর ১২টায় শিবগঞ্জের আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শুরু হয় বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা সেবা ও ছানি অপারেশন ক্যাম্প। আয়োজকদের বিবরণ অনুযায়ী, দুই দিনব্যাপী এই চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে মোট প্রায় ৪ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অস্ত্রোপচারের সুব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে। এর আগে কর্মসূচির প্রথম দিনে মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে দুই হাজার মানুষকে এই সেবার আওতায় আনা হয়েছিল।
সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল, দুস্থদের খাবার বিতরণ ও চিকিৎসাসেবা কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হয়েছিল; এবারও শিক্ষার্থীদের কল্যাণকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আজকের ছাত্রীরাই আগামীর দেশ গড়ার কারিগর। নারীরা যেন নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত ও উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখতে পারে, সে পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যে তিনি জিয়া পরিবারের উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো উল্লেখ করেন এবং পর্যায়ক্রমে স্থানীয় নির্বাচনী আসনের সব নাগরিকের দৃষ্টিসমস্যা দূর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী মীর লাবনী আকতার, রূপসী বিডি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, মীর ফারিয়া তাবাসসুম, মীর সামারা সুনাতসহ স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আনুষ্ঠানিকতা শেষে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ও সমগ্র জিয়া পরিবারের সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।