ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
Bangla Lead

দেশের প্রত্যেক নাগরিক সমান সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী: প্রধানমন্ত্রী



দেশের প্রত্যেক নাগরিক সমান সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

রাষ্ট্রে সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রংপুরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ বার্তা দেন। প্রধানমন্ত্রী মণ্ডপে পৌঁছালে সনাতন ধর্মাবলম্বী পূজারি ও পুণ্যার্থীরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। মন্দির কমিটির সভাপতি ভবতোষ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার প্রধানমন্ত্রীর হাতে শুভেচ্ছা স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মন্দির পরিচালনা কমিটির অনুকূলে উন্নয়ন সহায়তাস্বরূপ ১০ লাখ টাকার একটি অনুদান চেক হস্তান্তর করেন এবং মন্দিরের পেছনের আবাসিক হোস্টেল নির্মাণে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেন।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, দেশের প্রতিটি সংকট ও অর্জনে সব ধর্ম, মত ও পেশার মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন। ১৯৭১ সালে যেভাবে ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবাই যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, ঠিক একইভাবে ২০২৪ সালেও ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত ঢেলে স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার যখন জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার চেষ্টা করছে, তখন একটি কুচক্রী মহল বিভ্রান্তি ছড়াতে চাইছে। মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানকে কোনোভাবেই বিতর্কিত না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক কোনো দাবি থাকলে তা রাজপথের সহিংসতায় নয়, জনগণের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদে তুলে ধরা উচিত। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বিঘ্ন ঘটায় এমন কোনো অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না।

সরকারকে পুরো দেশের আপামর জনসাধারণের অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি এমন একটি সরকার যাঁর পক্ষে যারা ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি—সব নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে দায়বদ্ধ। সুষম উন্নয়নের অংশ হিসেবে রংপুর মহানগরের অবকাঠামোগত আধুনিকায়নে সম্প্রতি ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, গ্রামীণ জনপদে সেতু, কালভার্ট, স্কুল ও কলেজ সংস্কারে ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

এর আগে দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম রংপুর সফর। যাত্রাপথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে আয়োজিত পথসভায় তিনি কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড চালু এবং ধর্মীয় নেতাদের ভাতার মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীসহ সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Bangla Lead

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


দেশের প্রত্যেক নাগরিক সমান সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাষ্ট্রে সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রংপুরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ বার্তা দেন। প্রধানমন্ত্রী মণ্ডপে পৌঁছালে সনাতন ধর্মাবলম্বী পূজারি ও পুণ্যার্থীরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। মন্দির কমিটির সভাপতি ভবতোষ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার প্রধানমন্ত্রীর হাতে শুভেচ্ছা স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মন্দির পরিচালনা কমিটির অনুকূলে উন্নয়ন সহায়তাস্বরূপ ১০ লাখ টাকার একটি অনুদান চেক হস্তান্তর করেন এবং মন্দিরের পেছনের আবাসিক হোস্টেল নির্মাণে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেন।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, দেশের প্রতিটি সংকট ও অর্জনে সব ধর্ম, মত ও পেশার মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন। ১৯৭১ সালে যেভাবে ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবাই যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, ঠিক একইভাবে ২০২৪ সালেও ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত ঢেলে স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার যখন জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার চেষ্টা করছে, তখন একটি কুচক্রী মহল বিভ্রান্তি ছড়াতে চাইছে। মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানকে কোনোভাবেই বিতর্কিত না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক কোনো দাবি থাকলে তা রাজপথের সহিংসতায় নয়, জনগণের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদে তুলে ধরা উচিত। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বিঘ্ন ঘটায় এমন কোনো অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না।

সরকারকে পুরো দেশের আপামর জনসাধারণের অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি এমন একটি সরকার যাঁর পক্ষে যারা ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি—সব নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে দায়বদ্ধ। সুষম উন্নয়নের অংশ হিসেবে রংপুর মহানগরের অবকাঠামোগত আধুনিকায়নে সম্প্রতি ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, গ্রামীণ জনপদে সেতু, কালভার্ট, স্কুল ও কলেজ সংস্কারে ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

এর আগে দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম রংপুর সফর। যাত্রাপথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে আয়োজিত পথসভায় তিনি কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড চালু এবং ধর্মীয় নেতাদের ভাতার মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীসহ সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


Bangla Lead

সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাঃ উবায়দুল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা লিড