প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় পর্যায়ে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সফরকালে তিনি স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন এবং ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। সরকারপ্রধানের আগমনকে ঘিরে পুরো রাজশাহী মহানগরীতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) জনসভাস্থল ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের প্রস্তুতি সরেজমিন পরিদর্শন করেন সরকারের ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মাঠ পরিদর্শনকালে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, অতীতের ইতিহাসে কোনো সরকারপ্রধান হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানাতে সশরীরে রাজশাহী আসেননি; প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসে সেই ইতিহাস তৈরি করছেন। তিনি জানান, এই জনসভা থেকে রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রধান চারটি দাবি উপস্থাপন করা হবে। দাবিগুলো হলো—ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা, রাজশাহী থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কলকাতা রুটে সরাসরি তিনটি ট্রেন চালু করা এবং রাজশাহী বিমানবন্দরে কার্গো বিমান চলাচলের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এ ছাড়া জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় আখচাষিদের জন্য বিশেষ সরকারি প্রণোদনা ঘোষণা করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন।
সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে প্রধানমন্ত্রী সামরিক বাহিনীর বিশেষ বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে তিনি প্রথমে রংপুরের ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাবেন। এরপর দুপুরে রাজশাহীতে পৌঁছে ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। রাজশাহী পর্ব শেষ করে বিকেলে বিমানযোগে তিনি চট্টগ্রাম পৌঁছাবেন এবং সেখানকার জে এম সেন হলের রহমতগঞ্জ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে রাতে ঢাকায় ফিরে আসবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই হাই-প্রোফাইল সফর ঘিরে রাজশাহী মহানগরীতে কঠোর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, আরএমপি কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের যৌথ তদারকিতে বিমান অবতরণস্থল, ভিআইপি করিডোর, সার্কিট হাউস এবং জনসভাস্থলকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। নগরীর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রায় ৪০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং যানজট নিরসনে বিশেষ ট্রাফিক রোডম্যাপ কার্যকর করেছে পুলিশ প্রশাসন।