সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দকৃত কোয়ার্টারে অবৈধভাবে সাবলেট ভাড়া দেওয়ার তথ্যে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সরকারি আবাসন এলাকার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার আকস্মিক পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে কোয়ার্টারের ফ্ল্যাটগুলোতে অননুমোদিতভাবে সাবলেট দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘সরকারি কোয়ার্টারে সাবলেট দেওয়া কি বৈধ? যদি তা বৈধ না হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন ধরে কীভাবে এসব অনিয়ম চলছে? আমি দেখছি এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়।’ তবে তিনি কেবল নিয়মের ওপর নির্ভর না করে আবাসন এলাকার সার্বিক পরিবেশ সুন্দর রাখতে বাসিন্দাদেরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী কোয়ার্টার এলাকার বিভিন্ন ব্লক, চলাচলের পথ এবং সার্বিক পরিবেশ সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। এ সময় চারপাশে আবর্জনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে তিনি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কাছে এর কারণ জানতে চান। কোয়ার্টারের রক্ষণাবেক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়ে তিনি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এলাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করার কড়া আলটিমেটাম দেন।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এলাকার পরিবেশের অবনতি এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁরা কলোনির নিরাপত্তা জোরদার ও টেকসই পরিবেশ উন্নয়নের জন্য কার্যকর সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সব অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করেন। পরিদর্শনের একপর্যায়ে কোয়ার্টার চত্বরে জড়ো হওয়া শিশুদের সঙ্গে তিনি কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক এই পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালামসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।