জামায়াত জোটের লংমার্চ যাবে গোপালগঞ্জ হয়ে, তবে হবে না পথসভা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া অভিমুখী রোডমার্চ বা লংমার্চের নতুন তারিখ, বিস্তারিত রুট ও পথসভার স্থান চূড়ান্ত করা হয়েছে। ঘোষিত নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চের গাড়িবহর পদ্মা সেতু পার হয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে অতিক্রম করলেও জেলাটিতে কোনো পথসভা রাখা হয়নি; তবে পাশের জেলা বাগেরহাটের ফকিরহাটে সমাবেশ করবে জোটটি।রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।এর আগে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুসারে আগামী ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনায় সড়কপথে এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে রেলপথের লংমার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে আসন্ন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার সার্বিক ভাবগাম্ভীর্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচিগুলোর সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর কুষ্টিয়া অভিমুখী লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে এবং পরবর্তীতে নভেম্বর মাসে সিলেট অভিমুখে রেলপথের কর্মসূচি পরিচালিত হবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা, তীব্র জ্বালানি সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং দেশজুড়ে চাঁদাবাজি বন্ধসহ সুনির্দিষ্ট ৭ দফা দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছে জোটটি।লিয়াজোঁ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। এরপর সকাল ৮টায় পদ্মা সেতু হয়ে মাওয়া সড়ক দিয়ে কাফেলা যাত্রা করবে। রুট অনুযায়ী শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা এবং মাদারীপুরের টেকেরহাটে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর গাড়িবহর গোপালগঞ্জ শহর অতিক্রম করে বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাটাখালী মোড়ে পথসভা করবে। পরবর্তী সময়ে রূপসা সেতু পার হয়ে খুলনার শিববাড়ী মোড় ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের চাঁচড়া মোড় এবং ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ডে পর্যায়ক্রমে পথসভা করে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে মহাসমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হবে।গোপালগঞ্জে কোনো রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখছেন না বলে জানিয়েছেন বৈঠকে সভাপতিত্ব করা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম। তিনি উল্লেখ করেন, রংপুর ও চট্টগ্রামের কর্মসূচির মতোই এটি সুশৃঙ্খল হবে। প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, যেকোনো প্ররোচনা ও উসকানি এলে কর্মীরা তা সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে মোকাবিলা করবে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে জনদুর্ভোগ বা ভাঙচুর এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান তিনি।লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আলামিন এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী এবং বিডিপির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈমসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।