সর্বাত্মক যুদ্ধে নামছে সৌদি আরব, প্রস্তুত এক লাখ সেনা
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের নৌপথ পুনর্দখল এবং ইয়েমেনের একাধিক সীমান্ত এলাকায় একযোগে হামলা চালানোর লক্ষ্য নিয়ে এই সামরিক পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।শনিবার (৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে রয়টার্স আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানায়, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইয়েমেনের ভূখণ্ডে বহুমুখী সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। এ অভিযানে সৌদি আরবের সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও সামরিক নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর অন্তত ১ লাখ সেনা স্থল অভিযানে নেতৃত্ব দিতে পারে। তাদের সামরিক সহায়তায় সৌদি বিমানবাহিনী প্রস্তুত থাকবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে রিয়াদকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে। তবে পশ্চিমা বা আঞ্চলিক মিত্রদের কেউ সরাসরি স্থলযুদ্ধে অংশ নেবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিরা সম্প্রতি লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় অগ্রসর হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালি ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালির চলমান সংকটের কারণে বাব আল-মানদেবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাব আল-মানদেব ও উপকূলীয় এলাকার নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে থাকলে তাদের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনায় না যাওয়ার অবস্থান জানিয়েছে রিয়াদ।সৌদি সামরিক কমান্ডাররা অভিযানের জন্য দুটি সম্ভাব্য কৌশল বিবেচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম পরিকল্পনায় বাব আল-মানদেব ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা পুনর্দখল করতে সীমিত পরিসরের একটি সামরিক অভিযান পরিচালনার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় পরিকল্পনায় আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফসহ ইয়েমেনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একই সময়ে সমন্বিত বড় ধরনের সামরিক আক্রমণ চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।এদিকে হুতিদের সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো এবং সামরিক স্থাপনাগুলো সুরক্ষিত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে রিয়াদ।প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় পাকিস্তান সৌদি আরবের ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কাজে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। এ ছাড়া পাকিস্তান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান ও ড্রোন নিয়ে চারটি কার্গো বিমান ইয়েমেনের এডেন বন্দরে পাঠিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তুরস্কের ড্রোন এবং ফ্রান্সের সামরিক সুরক্ষা বাহিনীও লোহিত সাগরের কৌশলগত এলাকাগুলোতে মোতায়েন রয়েছে।তবে ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত স্থানীয় প্রক্সি বাহিনীগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং মাঠপর্যায়ে তাদের সমন্বয়ের বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ১ লাখের মতো ইয়েমেনি সেনা এই অভ্যন্তরীণ বিভাজন সামলে কীভাবে সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারে, তার ওপর পরিকল্পিত অভিযানের ফলাফল অনেকাংশে নির্ভর করবে বলে সামরিক বিশ্লেষকদের মতামত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।