ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla Lead

অজ্ঞাত হু'মকিতে দিশেহারা ই'স'রায়েল, ভ'য়াবহ বি'স্ফোরণে হ'তাহত ২৫ ইহুদি

বছরের পর বছর ধরে চলা যুদ্ধের ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে ইসরাইল। যুদ্ধক্ষেত্রের অনেক অস্ত্র হয়তো নীরব হয়ে গেছে, কিন্তু মাটির নিচে বা ঝোপঝাড়ে পড়ে থাকা অবিস্ফোরিত বোমা এখনো প্রাণঘাতী হয়ে আছে।সোমবার, ১২ অক্টোবর উত্তর ইসরাইলের লেবানন সীমান্তবর্তী একটি বনাঞ্চলে স্কুলের শিক্ষা সফরের সময় এমনই একটি অস্ত্র বিস্ফোরিত হয়। এতে এক শিক্ষার্থী নিহত এবং আরও ২৪ জন আহত হন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।ঘটনাটি ঘটে রামিম রিজ এলাকার নাফতালি মাউন্টেনস ফরেস্টে। ওআরটি মাআলত স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একটি দল তিন দিনের শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে সেখানে হাঁটছিল।প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের একজন পথের পাশে পড়ে থাকা একটি সামরিক অস্ত্র দেখতে পায়। পরে সেটি হাতে নেওয়ার পরই বিস্ফোরণ ঘটে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ও পুলিশের প্রাথমিক মূল্যায়ন, এটি হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত একটি ক্লাস্টার বোমার অবিস্ফোরিত অংশ হতে পারে। বিস্ফোরণে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এলাজার ইয়াইর উইলেনস্কি নিহত হন। আহত হন আরও ২৪ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। ঘটনাস্থল থেকে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এমন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় একটি শিক্ষা সফরের অনুমতি দেওয়া হলো কীভাবে?কারণ, ওই এলাকায় যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি এবং অবিস্ফোরিত অস্ত্রের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এলাকাটির কিছু অংশে প্রবেশ নিষিদ্ধও ছিল। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, তাদের অনুমোদিত সফরের পথ নিষিদ্ধ এলাকার ভেতর দিয়ে যায়নি। দলটি নির্ধারিত পথ থেকে সরে গিয়েছিল কি না, সেটি এখন তদন্ত করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, সফরের অনুমোদনের সময় শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট নিরাপত্তা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বা অবিস্ফোরিত কোনো অস্ত্র স্পর্শ না করার নির্দেশ ছিল। সন্দেহজনক কোনো বস্তু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে জানানোর কথাও বলা হয়েছিল। তারপরও বিপদ এড়ানো যায়নি।সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় উত্তর ইসরাইলে হিজবুল্লাহ কয়েক ডজন গ্র্যাড রকেট ছুড়েছিল, যার কিছুতে ক্লাস্টার মিউনিশন ছিল। এসব রকেট বিস্তীর্ণ এলাকায় ছোট ছোট বোমার অংশ ছড়িয়ে দিতে পারে। সবগুলো বিস্ফোরিত না হলে সেগুলো দীর্ঘ সময় পরও বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে থাকতে পারে। সমস্যাটি শুধু একটি বনাঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়। যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকায় পড়ে থাকা রকেট, গ্রেনেড, ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ এবং অন্যান্য অবিস্ফোরিত অস্ত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্কতা জারি করা হচ্ছে।কিছু অস্ত্র দেখলে সহজেই সামরিক সরঞ্জাম বলে বোঝা যায়। আবার কিছু ছোট ধাতব বস্তু সাধারণ জিনিসের মতোও দেখতে পারে। ফলে কৌতূহল থেকেই কেউ সেটি হাতে তুলে নিলে মুহূর্তেই ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।সোমবারের ঘটনার পর উত্তর ইসরাইলে অবিস্ফোরিত অস্ত্রের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে শিক্ষা সফরের অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং যুদ্ধক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিরাপত্তা যাচাই কতটা কার্যকর ছিল, সেটিও তদন্তের আওতায় এসেছে।ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাস্থল এবং আশপাশের এলাকায় আরও অবিস্ফোরিত অস্ত্র রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি অবিস্ফোরিত অস্ত্রের বিপদ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও যুদ্ধের অস্ত্র শেষ হয়ে যায় না। মাটির নিচে কিংবা জনসাধারণের চলাচলের পথের পাশে পড়ে থাকা একটি ছোট বিস্ফোরকও বছরের পর বছর পরিণত হতে পারে মৃত্যুফাঁদে।আর উত্তর ইসরাইলের এই ঘটনাটি সেই পুরোনো যুদ্ধের নতুন এক নির্মম পরিণতি সামনে আনল।

অজ্ঞাত হু'মকিতে দিশেহারা ই'স'রায়েল, ভ'য়াবহ বি'স্ফোরণে হ'তাহত ২৫ ইহুদি